

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজি ও গণপিটুনির ঘটনায় ঢাকা জেলা দক্ষিণ গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) চার সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর অবশেষে ডিবি দক্ষিণের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুমনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তবে তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আরেক বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা রেজাউল করিমকে। এ নিয়োগকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগে ঢাকা জেলা দক্ষিণ ডিবির চার সদস্য স্থানীয় জনতার হাতে আটক হন। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার পর বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষায় ডিবি দক্ষিণ শাখার ওসি সুমনকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার (ক্লোজ) করা হয়। কিন্তু তার পরিবর্তে দায়িত্ব পাওয়া রেজাউল করিমের অতীত নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে রেজাউল করিম দোহার থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন অপরাধী ও রাজনৈতিক মামলার আসামিদের আটক করে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দোহারের এক রাজনৈতিক নেতা বলেন, রেজাউল করিমের সময় বেশ কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেও থানার খাতায় দেখানো হয়নি। ২০২৫ সালের জুন মাসে যুবলীগ নেতা আলমাছকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনার পরও ছেড়ে দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়। পরে তাকে দোহার থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রেজাউল করিম বলেন, যুবলীগ নেতা আলমাছকে থানায় আনা হয়েছিল সত্য। কিন্তু আমার অনুপস্থিতিতে তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা তাকে ছেড়ে দেন। বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছিল। পরে আমাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলা দক্ষিণ অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, রেজাউল করিম যখন দোহারে কর্মরত ছিলেন, তখন আমি ঢাকা জেলায় ছিলাম না। তাই ওই সময়ের ঘটনা বা তাকে বদলির কারণ সম্পর্কে আমার জানা নেই।
এদিকে, যে ধরনের চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগে ডিবির ওসি পরিবর্তন করা হয়েছে, একই ধরনের অভিযোগে বিতর্কিত এক কর্মকর্তাকে পুনরায় ডিবির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের দায়িত্ব দেওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
সচেতন মহল বলছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত পুলিশের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনআস্থার প্রশ্নকে আরও জটিল করে তুলছে।