সোমবার
১০ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১০ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজে আটকা ১১ হাজার নাবিক, জাতিসংঘের অভিযান শুরু

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ১১ হাজারের বেশি নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতার পর জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) এই উদ্যোগ হাতে নিয়েছে।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, উদ্ধার অভিযানে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিপিং খাতের বিভিন্ন অংশীদারও যুক্ত রয়েছে।

আইএমও মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ বলেন, অভিযানের পরিধি ও জটিলতা বিবেচনায় এটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে। ইরান, ওমান, যুক্তরাষ্ট্র এবং অঞ্চলের অন্যান্য উপকূলীয় দেশের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। নাবিকদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য নৌপথের সার্বিক পরিস্থিতিও যাচাই করা হয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। এর জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। ফলে বহু বাণিজ্যিক জাহাজ এবং হাজারো নাবিক সমুদ্রে আটকে পড়েন।

তবে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতির ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক শিপিং পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার একদিনেই ৩৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যা সংঘাত শুরুর পর সর্বোচ্চ দৈনিক চলাচল।

ওমানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাহাজের অতিরিক্ত চাপ ও সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে উদ্ধার কার্যক্রম ধাপে ধাপে পরিচালনা করা হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে নৌপথে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগও জোরদার হচ্ছে। ডেনমার্ক ঘোষণা দিয়েছে, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক মিশনে তারা অংশ নেবে। এর লক্ষ্য হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ ও স্বাভাবিক নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা।

হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়েও দুই পক্ষের অবস্থানে পার্থক্য দেখা গেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই নৌপথকে আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এখানে কোনো দেশের একক নিয়ন্ত্রণ বা টোল আরোপ গ্রহণযোগ্য হবে না। অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর এই অঞ্চলের বাস্তবতা আগের অবস্থায় আর ফিরবে না।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন