

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) খনন করা তুলাতুলি খালের পাড় কেটে মাটি নিয়ে বাড়ির উঠান ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে আবদুল মতিন নামে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে লরেন্স ৪ নং ওয়ার্ডের শেষ সীমানার পোলের গোড়ায় তুলাতুলি খালের পাড়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় খালের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় বিঘ্ন ও পাড় ধসের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
অভিযুক্ত আবদুল মতিন তোরাবগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুশ শহীদের বড় ভাই এবং একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েই তিনি এ কাজ করছেন।খালটি গত বছর খনন করা হলেও সে সময় আবদুল মতিন খালের পাড় নিয়ে কোনো আপত্তি বা মালিকানা দাবি করেননি। প্রায় এক বছর পর তিনি খালপাড়ের জায়গাটি নিজের দাবি করে সেখান থেকে মাটি কেটে নিচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩–২৪ অর্থবছরে তোরাবগঞ্জ এলাকায় জলাবদ্ধতা ও বন্যা নিরসন এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে তুলাতুলি খাল খনন করে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। খনন শেষে খালের পাড় সংরক্ষণে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়। এছাড়াও পানি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বড় আকারের পাইপ স্থাপন করা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালের পাড়ের মাটি কেটে পাইপের উপরিভাগের মাটিও অপসারণ করা হচ্ছে। সেখানে ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিক কাজ করছেন এবং দুটি ট্রাক্টর দিয়ে শ্রমিকেরা মাটি নিয়ে যাচ্ছে।
মাটি কাটার কাজে নিয়োজিত কয়েকজন শ্রমিক জানান, আবদুল মতিনের নির্দেশেই তারা মাটি কাটছেন এবং ওই মাটি তার বাড়িতে নেওয়া হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, খালটি খননের পর দীর্ঘ সময় ধরে কোনো দাবি না থাকলেও এখন প্রভাব খাটিয়ে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের মাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে খালের পাড় দুর্বল হয়ে পড়বে এবং ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতাসহ জনভোগান্তি তৈরি হবে।
অভিযুক্ত আবদুল মতিন এ বিষয়ে বলেন, আমার মাটি আমি নিচ্ছি। খাল পাড়ের মাটি আপনার হয় কি করে জানতে চাইলে তিনি খালের পারটি তার নিজের জমি দাবি করেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মো.জুয়েল হোসেন বলেন, “খালের পাড়ের মাটি ব্যক্তিগতভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত উজ জামান বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”