

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ৭ নম্বর ভাদেশ্বর ইউনিয়নের বিহারীপুর গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কজুড়ে কাদা ও পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, ফলে প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিহারীপুর, খোজারগাঁও, নিজগাঁওসহ আশপাশের অন্তত ৪ থেকে ৫টি গ্রামের মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করেন।
এছাড়া স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিন এই পথেই যাতায়াত করেন। বিহারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে যেতে এ সড়কের ওপরই নির্ভরশীল স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে কাদায় পরিণত হওয়ায় পথচারী ও যানবাহনের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বিহারীপুর গ্রামের বাসিন্দা কাদির মিয়া বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে এই রাস্তার দুরবস্থা চলছে। জনপ্রতিনিধিদের কাছে বহুবার জানিয়েছি, কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা দিয়ে হাঁটা দায় হয়ে পড়ে।’
আরেক বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, ‘এই রাস্তা আমাদের একমাত্র ভরসা। শিক্ষার্থী, কৃষক ও রোগী—সবাইকে এই পথেই চলাচল করতে হয়। জরুরি রোগীকেও অনেক সময় দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না।’
বিহারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহেনা আক্তার বলেন, ‘বর্ষাকালে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যায়। অনেকে কাদায় পিছলে পড়ে আহত হয়, আবার কাপড়-চোপড় নোংরা হয়ে যাওয়ায় অনেকেই স্কুলে আসতে চায় না। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।’
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে ৭ নম্বর ভাদেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শ্রী কুমার কৈরি বলেন, ‘বিহারীপুরের সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর আওতাধীন। সড়কের বেহাল অবস্থার বিষয়টি আমি আগে অবগত ছিলাম না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করব।’
বাহুবল উপজেলা এলজিইডির সার্ভেয়ার উজ্জ্বল মণ্ডল জানান, ‘বিহারীপুর সড়কটি আইআরডিপি-৩ প্রকল্পের আওতায় ডিপিপির জন্য প্রস্তাব করা হয়েছিল। পাশাপাশি সিলেট বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের জন্যও এটি প্রস্তাবিত রয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদিত হলে সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।’
বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন, ‘বিহারীপুর সড়কের সমস্যাটি চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।