

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় স্কুলে যাওয়ার পথে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর ওপর অ্যাসিডসদৃশ দাহ্য ও ক্ষয়কারী পদার্থ নিক্ষেপের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের রঘুনাথপুর এলাকায় বেগম ফজিলাতুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
বুধবার (১০ জুন) সকালে ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা তাছলিমা বেগম বাদী হয়ে তিতাস থানায় মামলা দায়ের করেন।
স্থানীয় সূত্র, পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ছাত্রী রঘুনাথপুর বেগম ফজিলাতুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। কয়েকদিন ধরে অজ্ঞাতনামা ৪ থেকে ৫ যুবক তাদের বাড়ির পূর্ব পাশে একটি নবনির্মিত ভবনের ছাদে আড্ডা দিত। এ নিয়ে ছাত্রীর বাবা আপত্তি জানালে তারা ক্ষুব্ধ হয়। পরে স্কুলে যাতায়াতের পথে ছাত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় স্কুলের সীমানার ভেতরে প্রবেশ করলে কয়েকজন যুবক তাকে একা পেয়ে টানাহেঁচড়া করে। এ সময় তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে এক যুবক হাতে থাকা দাহ্য ও ক্ষয়কারী পদার্থ তার দিকে নিক্ষেপ করে। পদার্থটি শরীরে না লাগলেও তার পরিহিত হিজাব ও পোশাকের কিছু অংশ ঝলসে যায়।
ছাত্রীর চিৎকারে সহপাঠীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগীর পরিবার বিষয়টি থানায় জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার বাদী তাছলিমা এনপিবি নিউজকে জানান, “আমার মেয়ে ছেলেগুলোকে চিনে না, তবে সামনে আনলে চিনতে পারবে।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান ভুইয়া বলেন, “ঘটনাটি উদ্বেগজনক। বিষয়টি জানার পরে আমি ভুক্তভোগী মেয়েটির সাথে কথা বলেছি। সে ওই যুবকদের চিনে না। যেহেতু বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটেছে, তাই বিষয়টি থানায় অবহিত করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি আমার উর্ধতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।”
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিরুল হক বলেন, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা মামলা দায়ের করেছেন। নিক্ষেপ করা পদার্থটি নিশ্চিতভাবে অ্যাসিড কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে এটি কোনো দাহ্য বা ক্ষয়কারী রাসায়নিক পদার্থ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীর হিজাব ও পোশাকের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জড়িতদের পরিচয় শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”