

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড মডেল থানার দুই এসআইসহ তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্য, মিথ্যা মামলা, নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা হলেন—এএসআই হারুন রশিদ, এসআই পরিমল এবং কনস্টেবল মেহেদী।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এএসআই হারুন ও এসআই পরিমল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছেন। নিরীহ মানুষকে ইয়াবা দিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি, বড় মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় এবং থানায় আটকে রেখে নির্যাতনের মতো অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে থানায় নিয়ে রাতভর নির্যাতনের ঘটনাও ঘটে, যা স্থানীয়দের কাছে ‘ওপেন সিক্রেট’ হিসেবে পরিচিত।
এদিকে এসব ঘটনায় ভুক্তভোগী মোশারফ জানান, দীর্ঘদিনের এসব নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। পাশাপাশি তিনি পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, পুলিশ সিকিউরিটি সেল এবং জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, অভিযোগকারী মোশারফ ‘সজীব’ নামের এক ব্যক্তিকে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত একটি কল ৯৯৯ পাওয়ার পর এএসআই হারুন তার টিমসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে মোশারফকে গ্রেফতার করেন। পরবর্তীতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মোশারফ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আইনের আশ্রয় নেন।
ওসি আরও বলেন, মোশারফ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন দপ্তরে যে অভিযোগ দিয়েছেন, সেগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে। তদন্তে এএসআই হারুন, এসআই পরিমল ও কনস্টেবল মেহেদীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্প্রতি পুলিশের সাবেক সদস্য মোশাররফকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। জানা যায়, এএসআই হারুন, এসআই পরিমল ও কনস্টেবল মেহেদী তাকে বিনা অপরাধে আটক করে আদালতে পাঠান।
ঘটনায় ‘সজিব’ নামের এক যুবককে জোরপূর্বক সাক্ষী বানানোর অভিযোগ উঠেছে। সজিব দাবি করেন, তাকে বাড়ি থেকে তুলে এনে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোশাররফের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়। পরে তিনি আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্বীকার করেন, মোশাররফ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং পুলিশ তার কাছ থেকে জোরপূর্বক মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করে।
বাদীর এমন বক্তব্যের পর আদালত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে মোশাররফকে জামিন দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়দের ভাষ্য, অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে হয়রানি এবং মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
একজন পুলিশ সদস্য হয়ে সাবেক সহকর্মীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ঘটনায় পুলিশ বাহিনীর ভেতরেও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিনের নিপীড়নের প্রতিবাদে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। খুব শিগগিরই অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তাদের দাবি—অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করার সাহস না পায়।
মন্তব্য করুন