শুক্রবার
০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোনালি ফসল এখন পানির নিচে, নান্দাইলে কৃষকের হাহাকার

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
টানা ভারি বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় ২০২ হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে, পানিতে নেমে ধান কাটছেন কৃষকরা।
expand
টানা ভারি বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় ২০২ হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে, পানিতে নেমে ধান কাটছেন কৃষকরা।

ময়মনসিংহের নান্দাইলে চলতি বোরো মৌসুমে ৯৩৫ হেক্টর ধান চাষ করা হয়েছে। দেশে টানা ভারি বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় ২০২ হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং ৭০৫ হেক্টর জমির ফসল আংশিক ক্ষতির হয়েছে। এতে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে অপরিকল্পিত পুকুর খনন ও পানি নিষ্কাশনের পথে কৃত্রিম বাঁধ দেওয়ায় ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় কয়েকশ’ কৃষকের সোনালি স্বপ্ন এখন পানির নিচে। ধান কাটার শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটা যাচ্ছে না বলেও কৃষকরা অভিযোগ তুলেছেন।

উপজেলার আচারগাঁও,নান্দাইল, গাংগাইল/,মুসুল্লী/বেতাগৈর, চন্ডীপাশা /চরবেতাগৈর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষকদের করুণ চিত্র।

তলিয়ে যাওয়া আধাপাকা ধান কাটতে কাউকে হাঁটু পানি সমান পানিতে নামতে হচ্ছে, কেউ কেউ বুক পানিতে নেমে, কেউবা নৌকা/ভেলায় করে ধান কাটার চেষ্টা করছেন।

অনেক কৃষককে ফসলের দিকে তাকিয়ে নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। কৃষকদের অভিযোগ, ভারী বর্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় প্রভাবশালীরা মাছ ধরার জন্য বিল ও খালে বাঁধ দিয়ে মাছ ধরার কারণে পানি দ্রুত নদীতে নামতে পারছে না।

এছাড়া ফসলি জমিতে যত্রতত্র ও অপরিকল্পিত পুকুর খনন করায় পানি প্রবাহের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

শিমুলতলা গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম জানান, ধান কাটার জন্য শ্রমিক না পাওয়ায় ও আগাম বৃষ্টিতে আমাদের ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

এতে আমাদের সব শেষ হয়ে যায়। ভাটি সাভার গ্রামের আজিজুল হক বলেন, একদিকে ধান কাটার শ্রমিকের সংকট, অন্যদিকে এই সুযোগে কম্বাইন্ড হারভেস্টার চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন। ফলে অনেক সংকটের মুখে পড়েছেন তারা।

পাশাপাশি জলাবদ্ধতার কারণেও পানি নিষ্কাষন না হওয়ায় আমাদের উৎপাদিত ধান ঘরে তুলতে পারছি না। এতে আমাদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে নান্দাইল উপজেলায় ৯৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক দুর্যোগে ২০২ হেক্টরের বেশি জমি ক্ষতি গ্রস্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন নান্দাইল উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বাবুল বলেন, ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করা কৃষকরা এখন দিশেহারা। জলাবদ্ধতার জন্য অবৈধ বাঁধ ও অপরিকল্পিত পুকুরই প্রধান দায়ী। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানান।

এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহানা নাজনীন জানান, বিল বা জলাশয়ে পুকুর নির্মাণে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পানি প্রবাহ বন্ধ করে অবৈধভাবে কেউ বাঁধ দিলে বা পুকুর নির্মাণ করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাঈমা সুলতানা বলেন, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় প্রায় ২০২ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে করে কৃষকের ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা নির্ধারত করা হয়েছে। বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে গেলে ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।

কৃষকরা যাতে অবশিষ্ট ধান কেটে দ্রুত ঘরে তুলতে পারেন, সেজন্য মাঠ পর্যায়ে তাদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী অতি বৃষ্টির ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ জানতে চেয়ে কৃষি কর্মকর্তার নিকট বার্তা পাঠিয়েছেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন