

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রংপুর জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ের প্রতিটি দেয়ালে ঝুলছে আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহৃত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র। যার প্রতিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে আরও প্রায় সাড়ে ৩ মাস আগে। জেলা প্রশাসকের দরজার সামনেও ঝুলছে মেয়াদোত্তীর্ণ আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহৃত এই অগ্নিনির্বাপক গুলো।
এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে চলতি মাসে রাজধানীর কেরানীগঞ্জে একটি গ্যাস লাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এমন অবস্থায় মেয়াদোত্তীর্ণ অগ্নি প্রতিরোধক নিয়ে শঙ্কা বিরাজ করছে রংপুর ডিসি কার্যালয়ে। বৃহস্পতিবার ( ৩০ এপ্রিল ) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রবেশ পথে ঢুকতেই সেবাগ্রহীতাদের বসার স্থান সংলগ্ন হাজতখানা থেকে শুরু করে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় ঝোলানো সব কটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মেয়াদ শেষ হয়েছে।
ডিসি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সবশেষ ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলো হালনাগাদ করা হয়। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি এসব যন্ত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তবে মেয়াদ শেষ হলেও নতুন করে এগুলো প্রতিস্থাপন করা হয়নি।
অভিযোগ আছে, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নেজারত শাখা প্রতিবছর অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রগুলো রিফিল না করে গায়ে নামমাত্র স্টিকার সাঁটিয়ে দেন। এতে করে দুর্ঘটনায় বড় বিপদের শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা কলেজ শিক্ষিকা শামসুন্নাহার বলেন, কিছুদিন আগে ঢাকায় একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ঘটনাস্থলেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৫ জন মারা গেছে। কোথাও আগুন লাগলে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই বড় দুর্ঘটনা ঘটে যায়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে এনপিবিকে বলেন, ‘তাৎক্ষণিক দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় এই অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলো। আর এখানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ঝুলে থাকা এই যন্ত্রগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ। আগুন লাগলে ভয়ানক কিছু হতে পারে।’ আইনজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নিচতলায় তিনটি কোর্ট পরিচালনা হয়। আমাদের মক্কেলসহ আইনজীবীদের নিয়মিত আসতে হয় এখানে। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত এগুলোর রিফিল করা।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী জানান, এটি অত্যন্ত বিপজ্জজনক ও ঝুঁকিপূর্ণ। অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রগুলোর নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখতে হবে, যাতে প্রয়োজনে সঠিক ব্যবহার করা যায়। কর্মচারীরা আরও জানান, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রগুলোর নিয়মিত চেকিংসহ যন্ত্রপাতির সক্ষমতা না বাড়ালে যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। মানবাধিকার ও সমাজকর্মী ফারুক হোসেন দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, ‘ডিসি অফিস ছাড়াও অন্যান্য সরকারি অফিসগুলোরও একই অবস্থা। যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সকলকে সচেতন হওয়া উচিত।’ এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক রোকসানা বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি এনপিবিকে বলেন, ‘এগুলোর বিষয় আমার জানা নেই, ডিসি স্যার জেলাপ্রশাসক সম্মেলনে থাকায় আমি অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি।’
মন্তব্য করুন