

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কক্সবাজারের পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার উপকূলজুড়ে দিগন্তজোড়া মাঠে এখন সাদা সোনা খ্যাত সাদা লবণের স্তপ আর স্তুপ। একসময় যে লবণকে উপকূলবাসী “সাদা সোনা” বলে আখ্যা দিতেন, সেই লবণই এখন চাষিদের জন্য হয়ে উঠেছে গলার ফাঁস। ভরা মৌসুমে লবণের দাম উৎপাদন খরচের অর্ধেকেরও নিচে নেমে আসায় চরম বিপাকে পড়েছেন প্রায় সাড়ে চার হাজার লবণচাষি।
মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কুতুবদিয়া ও পেকুয়া এলাকায় প্রতি কেজি লবণের দাম নেমে এসেছে প্রায় ৪ টাকায়। ফলে প্রতি মণ লবণ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়। অথচ জমি লিজ, শ্রমিক মজুরি এবং পলিথিনসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি মণ লবণ উৎপাদনে চাষিদের ব্যয় হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪২০ টাকা। এতে প্রতি মণে প্রায় ১৪০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।
দক্ষিণ ধুরুং এলাকার লবণচাষি মো. কামাল ও আলী ফকির ডেইলের ছোটন জানান, গত মৌসুমেও তারা লক্ষাধিক টাকা লোকসানের মুখে পড়েছিলেন। চলতি মৌসুমে দাম আরও কমে যাওয়ায় অনেকেই ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন। ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় উপজেলার প্রায় ৫০০ একর জমি এ বছর পতিত পড়ে আছে বলেও জানান তারা।
পেকুয়ার লবণ চাষিদের অভিযোগ, মিল মালিক ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কারণেই তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা চাষিদের কাছ থেকে কম দামে লবণ কিনে বাজারে বেশি দামে বিক্রি করলেও সেই লাভের অংশ পাচ্ছেন না উৎপাদকরা। সরকারি পর্যায়ে সরাসরি লবণ ক্রয়ের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় চাষিরা পুরোপুরি মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।
এদিকে সামনে পবিত্র ঈদুল ফিতর। কিন্তু উপকূলের অনেক পরিবারেই নেই ঈদের আনন্দ। চরম আর্থিক সংকটে নতুন কাপড় কেনা বা ঈদের বাজার করার সামর্থ্য হারিয়েছেন বহু চাষি। এনজিও ও মহাজনের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে অনেকেই চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও চাষিদের দাবি, এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী ‘লবণ বোর্ড’ গঠন জরুরি। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী লবণ আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে সরকারিভাবে লবণ কেনার ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পেকুয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরান জাদিদ মুকুট বলেন, লবণ চাষীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। কিন্তু তারা এখনো ন্যায্যমূল্য ও পর্যাপ্ত সহায়তা থেকে বঞ্চিত। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং লবণ চাষীদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জোর দাবি জানাচ্ছি। তাদের স্বার্থ রক্ষায় উপজেলা যুবদল সবসময় পাশে থাকবে।
কুতুবদিয়া-মহেশখালী আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ বলেন, লবণচাষিদের স্বার্থ রক্ষা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী লবণ বোর্ড গঠন সময়ের দাবি। দেশীয় লবণচাষিদের রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত লবণ শিল্প বর্তমানে গভীর সংকটে রয়েছে। দ্রুত কার্যকর সরকারি উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়ে চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন