

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সাভারের আশুলিয়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ইয়ারপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিকী ওরফে বাবু ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে পরবর্তীতে আদালত থেকে আসামির সাথে ভুক্তভোগী নারীর বিয়ের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ৪ মার্চ আশুলিয়া থানায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর ৫ মার্চ (বৃহস্পতিবার) রাতে আশুলিয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বাবু ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে।
আশুলিয়া থানার ওসি রুবেল হাওলাদার মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা গ্রহণ করা হয়েছিল এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাবু ভূঁইয়া নিজেকে ছাত্রদলের প্রভাবশালী নেতা পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই নারীর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের এক পর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তিনি একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। নারীটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর বাবু ভূঁইয়া সম্পর্ক অস্বীকার করেন এবং বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং টাকার বিনিময়ে মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগী নারীর পরিবার জানায়, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর থেকে ওই নারী সামাজিক ও মানসিক চাপে ভেঙে পড়েছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হয় এবং মামলা হয়।
এই বিষয়ে আশুলিয়া থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন জানান, কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় দল নেবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। এদিকে নারীর প্রতি সহিংসতার এমন ঘটনায় স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরাও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
অবশেষে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালতের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর সাথে অভিযুক্তের বিয়ের শর্তে বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ায় মামলাটি ভিন্ন মোড় নিলো।
মন্তব্য করুন
