

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে বেশ কয়েকটি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের চিত্র দেখা গেছে। অনেক জায়গায় অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় অর্ধশত আসনে ১০ হাজারের কম ভোটের ব্যবধানে ফল নির্ধারিত হয়েছে। এসব আসনের অনেকগুলোতেই পরাজিত হয়েছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস ও এনসিপির মতো দলের পরিচিত ও আলোচিত প্রার্থীরা।
দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি, পরিচিত নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক প্রভাব থাকলেও এবারের নির্বাচনে অনেক ক্ষেত্রে ভোটাররা ভিন্ন বার্তা দিয়েছেন। একাধিক আসনে প্রতিষ্ঠিত প্রার্থীদের হারিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছেন তারা।
অল্প ব্যবধানে জয়–পরাজয় : নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী অন্তত ৪৯টি আসনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান ছিল ১০ হাজার ভোটের মধ্যে।
খুলনা-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিএনপির মোহাম্মদ আলী আসগারের কাছে ২ হাজার ৬০৮ ভোটে পরাজিত হন। এ আসনে আলী আসগার পান ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট, আর মিয়া গোলাম পরওয়ার পান ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট। সেখানে মোট ভোট পড়ার হার ছিল ৭৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
ঢাকা-১০ আসনে বর্তমান সড়ক, রেল ও নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ৩ হাজার ৩০০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। তিনি পান ৮০ হাজার ৪৩৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. জসীম উদ্দীন সরকার পান ৭৭ হাজার ১৩৬ ভোট। এ আসনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৪৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
ঢাকা-১১ আসনে এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ২ হাজার ৩৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি পান ৯৩ হাজার ৮৭২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এম এ কাইয়ুম পান ৯১ হাজার ৮৩৩ ভোট।
পঞ্চগড়-১ আসনে এনসিপির মো. সারজিস আলম ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯ ভোট পেলেও জয়ী হতে পারেননি। সেখানে বিএনপির মুহাম্মদ নওশাদ জমির ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৯ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
খুলনা-২ আসনে বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু ৫ হাজার ৫৯২ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। তিনি পান ৮৮ হাজার ১৯৭ ভোট। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল ৯৩ হাজার ৭৮৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। পরে বিএনপি সরকার গঠনের পর নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বিএনপির যেসব আসনে ব্যবধান কম: ১০ হাজার বা তার কম ভোটের ব্যবধানে যেসব আসনে বিএনপির প্রার্থীরা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- রংপুর-৪, রংপুর-৬, কুড়িগ্রাম-২, জয়পুরহাট-১, নওগাঁ-২, রাজশাহী-১, পাবনা-৩, পাবনা-৪, কুষ্টিয়া-৪, বাগেরহাট-১, ময়মনসিংহ-১, নেত্রকোনা-৫, ঢাকা-৪, ঢাকা-৫, ঢাকা-১৬, চাঁদপুর-৪ ও রাজশাহী-৪।
জামায়াতের প্রার্থীদের অল্প ব্যবধানে হার: জামায়াতে ইসলামীর অন্তত ১৮ জন প্রার্থী ১০ হাজার বা এর কম ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। এসব আসনের মধ্যে রয়েছে- ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৩, লালমনিরহাট-১ ও ২, গাইবান্ধা-৪, সিরাজগঞ্জ-১, খুলনা-৩, বরগুনা-২, ঝালকাঠী-১, ময়মনসিংহ-৪, কিশোরগঞ্জ-৩, ঢাকা-৭, ঢাকা-১৭, সিলেট-৬, কুমিল্লা-৫ ও কক্সবাজার-৪।
অন্যান্য দলের অল্প ব্যবধানের আসন: এ ছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও কয়েকটি আসনে ১০ হাজারের কম ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে- পঞ্চগড়-১, দিনাজপুর-৫, ময়মনসিংহ-৩ ও ১০, ঢাকা-৮, ঢাকা-১৩, গোপালগঞ্জ-২, সিলেট-৫, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ এবং চট্টগ্রাম-১৪।
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, এসব আসনের ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে অনেক জায়গায় ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল অত্যন্ত তীব্র। অল্প ব্যবধানের এই ফলাফল ভবিষ্যৎ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশল নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
মন্তব্য করুন
