

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো এই মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী ও কাতার এনার্জির প্রধান নির্বাহী সাদ আল-কাবি সতর্ক করে বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেল ও গ্যাস উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। ব্রিটিশ দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ফেলতে পারে।
গত শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৯ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা ২০২৩ সালের শরতের পর সর্বোচ্চ। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব পড়বে বিশ্বজুড়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।
জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে খাদ্যপণ্য ও অন্যান্য আমদানিনির্ভর পণ্যের দামে। একই সঙ্গে হিটিং খরচ ও উৎপাদন ব্যয় বাড়ার ফলে শিল্পকারখানাগুলোও চাপের মুখে পড়তে পারে।
কাতার এনার্জির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের একটি এলএনজি উৎপাদন স্থাপনা সামরিক হামলার ঝুঁকির কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। সাদ আল-কাবি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি যদি কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত বিশ্বজুড়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। জ্বালানির দাম বাড়লে শিল্প উৎপাদন কমে যেতে পারে এবং এর ফলে বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে চীন, ভারত ও জাপানের মতো বড় অর্থনীতির দেশগুলো বিশেষ উদ্বেগের মধ্যে পড়েছে, কারণ তারা এই রুটের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক হোর্হে লিওনের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বাস্তব ঝুঁকি তৈরি করছে। তার ভাষায়, “এই সংকট সাময়িক নাকি বড় কোনো অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সূচনা—এ মুহূর্তে তা বলা কঠিন। তবে সরবরাহ ব্যবস্থা দুই সপ্তাহের বেশি ব্যাহত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।”
এদিকে যুক্তরাজ্যের বাজার তদারকি সংস্থা সিএমএ এবং জ্বালানি নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান অফজেম পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ইতোমধ্যে দেশটিতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর হাতে কয়েক সপ্তাহের জ্বালানি মজুত থাকলেও তা শেষ হয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। সংকট মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ জরুরি তেল মজুত বাজারে ছাড়ার উদ্যোগ নিতে পারে, যেমনটি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় দেখা গিয়েছিল।
মন্তব্য করুন
