

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনার জেরে কাচি দিয়ে বাকপ্রতিবন্ধী তরুণকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
এই সময় ছেলেকে বাঁচাতে গেলে বাবাও ওপর হামলা চালায় স্থানীয় একদল সন্ত্রাসী। এই ঘটনার নেপথ্যে স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী বাচ্চু।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কালমেঘা ইউনিয়নের কালিবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত তরুণ একই গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান খানের ছেলে মো. রবিউল ইসলাম (২৪)। পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
অভিযুক্তরা হলেন, বহিরাগত সন্ত্রাসী মো. লিটন- পিতা হোসেন, বাচ্চু ওরফে কালা বাচ্চু- পিতা সাহেব আলি, সাগর বিশ্বাস পিতা সোরাব বিশ্বাস, হামেজের ছেলে বাচ্চু মিয়া প্রমুখ ।
ঘটনার বিষয়ে রবিউলের পিতা সিদ্দিক বলেন, আমাদের বাড়ির সামনের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ চলছে। উত্তারাধীকার সূত্রে এই জমির মালিক আমার মা সুফিয়া। কিন্তু আমার মায়ের চাচাতো ভাইয়েরা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের জমির থেকে বঞ্চিত ও ভূমিহীন করে রেখেছে।
সম্প্রতি আমরা জমির সকল কাগজ তুলে দেখতে পাই এই জমি আমার নানার নামে রয়েছে। সেই সূত্রে এই জমির মালিক আমরা মা সুফিয়া। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে উপজেলা ভূমি অফিসে একটি নালিশি মামলা করেছি। মামলার প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনেও আমাদের ঠকানোর বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আজ সকালে হঠাৎ করেই আমরা দেখতে পাই একদল বহিরাগত লোক আমাদের জমির ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এমন অন্যায়ের বিষয়টি আমার পরিবারের সদস্যরা পাথরঘাটা থানায় জানাতে যায়। এই সময়ে আমার বাক প্রতিবন্ধী ছেলে ঘুম থেকে উঠে রাস্তায় বের হয়ে দেখে অনেক মানুষ আমাদের জমির ধান কাটছে।
বিষয়টি সে মোবাইল ফোনে ভিডিও করছিলো। বহিরাগত সন্ত্রাসী মো. লিটননের নেতৃত্বে একদল বহিরাগত সন্ত্রাসী ওপর হামলা করে। হামলাকারীরা ধান কাটার কাচি দিয়ে আমার ছেলের পায়ের রগ কেটে দিতে চায়।
এই সময়ে ছেলেকে বাঁচাতে আমি এগিয়ে গেলে আমাকেও মারধর করা হয়। পরে আমার ভাই আবুল হোসেন এগিয়ে আসলে তার ওপরেও হামলার চেষ্টা করা হয়। পরে আমাদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসে।
পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রাখাল বিশ্বাস অপূর্ব জানান, দুপুরের দিকে মারধরের ফলে আঘাত নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। তাদেরকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের পায়ে গুরুতর জখম রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পাথরঘাটা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ভাস্কর চন্দ্র দে। মারধরের সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধান কাটার বিষয়টি দেখতে পেয়েছি।
ধান যে চাষ করছে তার জিম্মায় রাখা হয়েছে, আহতদের চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে এবং দুইদিন পরের মীমাংসার জন্য সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। ওই সময় কাগজপত্র দেখে যার জমি তাকে বুঝিয়ে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন
