শুক্রবার
০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা নামলো এক অঙ্কের ঘরে

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে শীত
expand
পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে শীত

উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে শীত৷ উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমালয়ের হিম বাতাস আর ঘন কুয়াশার কারণে বেড়ে শীতের তীব্রতা৷ এক অঙ্কের ঘরে নেমেছে তাপমাত্রা এবং শুরু হয়েছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ।

আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলার তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৪ শতাংশ।

এদিকে আজ সকালে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, হালকা কুয়াশার ভোর পেরিয়ে ঝলমলে রোদ নিয়ে সূর্যের দেখা মিলেছে। সূর্যের আলোয় ঝলমল করছে জেলার প্রকৃতি। রোদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে জনজীবন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্যও লক্ষ্য করা গেছে। তবে তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবীরা।

তেঁতুলিয়া উপজেলার মোমিনপাড়া এলাকার বাসিন্দা দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, কয়েক দিন ধরে অনেক ঠান্ডা ও বাতাস বইছে৷ হঠাৎ আবার এত ঠান্ডা পড়বে ভাবিনি। সকালে কাজে বের হতে খুব কষ্ট হচ্ছে। গরম কাপড় না থাকলে টিকেই থাকা মুশকিল।

একই কথা বলেন পাথর উত্তোলন শ্রমিক আব্দুল হাকিম। তিনি জানান, সকাল হলেই আমাদের কাজে নামতে হয়। শীতের কারণে হাত-পা শক্ত হয়ে আসে। কাজ করতে কষ্ট হচ্ছে, তবু পেটের দায়ে যেতে হচ্ছে।

এদিকে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। সর্দি-কাশি, ঠান্ডাজনিত জ্বর, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত দুই দিনে রোগীর সংখ্যা প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে শিশু ও প্রবীণ রোগীর সংখ্যাই বেশি।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মাহবুব আলম বলেন,আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট ও সর্দি-জ্বরসহ বিভিন্ন ঠান্ডাজনিত রোগ বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। তিনি সবাইকে গরম কাপড় ব্যবহারের পাশাপাশি সকাল ও সন্ধ্যায় অপ্রয়োজনে বাইরে কম বের হওয়া এবং গরম পানি পান করার পরামর্শ দেন।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, এখানে গত কয়েক দিন ধরে জেলার তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। আজ তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন ৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে, যা মৃদু শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে পড়ে। শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে দুই একদিনে৷

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X