

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জামালপুরে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে দুটি উচ্চ বিদ্যালয় ও দুটি দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে।
শিক্ষা অফিস ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠান চারটি হলো—ইসলামপুর উপজেলার কদমতলী ক্বারীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, বীর মাইজবাড়ী দাখিল মাদ্রাসা, সরিষাবাড়ী উপজেলার ছাপরকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং বকশীগঞ্জ উপজেলার শেফালী মফিজ মহিলা মাদ্রাসা।
ইসলামপুরের কদমতলী ক্বারীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় তিনজন। ফলাফলে তিনজনই অকৃতকার্য হয়েছে। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল্লাহ বলেন, ২০২৫ সালে বিদ্যালয়টি পাঠদানের অনুমতি পায়। নিয়ম অনুযায়ী এখানকার শিক্ষার্থীদের ২০২৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা। রেজিস্ট্রেশন ও পরীক্ষাসংক্রান্ত বিষয় যাচাইয়ের জন্য এবার তিনজন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তাই এ ফলাফলকে বিদ্যালয়ের নিয়মিত ব্যাচের ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।
বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১৮৭ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে নয়জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।
একই উপজেলার বীর মাইজবাড়ী দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবার দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮ জন শিক্ষার্থী। তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে প্রায় ১৩০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে এবং শিক্ষক রয়েছেন আটজন।
মাদ্রাসাটির সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকট রয়েছে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের ফলাফলেও এর প্রভাব পড়েছে।
ইসলামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফা আক্তার বলেন, এখনো পূর্ণাঙ্গ ফলাফল হাতে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর এ বিষয়ে মন্তব্য করা হবে।
সরিষাবাড়ীর ছাপরকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১১ জন। তাদের একজনও পাস করতে পারেনি। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে চারজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, বিদ্যালয়টিতে চারজন শিক্ষক রয়েছেন। এবার ১১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে একজনও পাস করতে পারেনি।
বকশীগঞ্জ উপজেলার শেফালী মফিজ মহিলা মাদ্রাসা থেকে এবার দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ জন শিক্ষার্থী। ফলাফলে তাদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামছুর আলম বলেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল উদ্বেগজনক। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে বিস্তারিত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।