

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চাঁদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানা ইঙ্গিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই পোস্ট ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ আইন অনুযায়ী কোনো দেশই চাঁদের ওপর সার্বভৌমত্ব বা মালিকানা দাবি করতে পারে না।
গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন পতাকার পাশাপাশি ‘দ্য মুন ইজ আওয়ার্স’ (চাঁদ আমাদের) লেখা একটি ছবি পোস্ট করেন। এরপর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ওঠে, যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই চাঁদকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করেছে?
ফ্যাক্টচেক করে দেখা গেছে, ট্রাম্পের ওই পোস্টটি আসল হলেও এর পেছনে কোনো আনুষ্ঠানিক আইনি ঘোষণা বা নির্বাহী আদেশ নেই।
জাতিসংঘের আউটার স্পেস ট্রিটি বা বহিঃমহাকাশ চুক্তি অনুযায়ী কোনো দেশ চাঁদের মালিকানা দাবি করতে পারে না। চুক্তির ২ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, চাঁদ বা অন্য কোনো মহাজাগতিক বস্তুকে সার্বভৌমত্ব দাবি, ব্যবহার, দখল কিংবা অন্য কোনো উপায়ে কোনো রাষ্ট্র নিজের অধিকারভুক্ত করতে পারবে না।
যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও স্বাক্ষরকারী দেশ। ফলে চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে দেশটি আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে জাতিসংঘের মহাকাশবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওওএসএ)-এর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া কোনো বক্তব্য চুক্তির আওতায় চাঁদের আইনি অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে না। কোনো বক্তব্য আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন কি না, তা নির্ভর করে তার আইনি চরিত্র, প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্যের ওপর।
যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও চাঁদে মহাকাশযান অবতরণ করানো চীন, রাশিয়া, ভারত ও জাপান আউটার স্পেস ট্রিটির সঙ্গে যুক্ত। ফলে ট্রাম্পের পোস্টে দেওয়া ইঙ্গিতের কোনো আন্তর্জাতিক আইনি স্বীকৃতি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
বরং বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের মহাকাশ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। এর আগে ২০২৫ সালে স্বাক্ষরিত এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে স্থায়ী মার্কিন ফাঁড়ি স্থাপন এবং সেখানে পারমাণবিক চুল্লি পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন।
এমনকি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও মহাকাশকে একক আন্তর্জাতিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনার পরিবর্তে মহাকাশসম্পদ ব্যবহারে জাতীয় স্বার্থ ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল তার প্রশাসন।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘চাঁদ আমাদের’ লেখা পোস্ট করা আর আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে চাঁদের মালিকানা দাবি করা এক বিষয় নয়। বর্তমান আন্তর্জাতিক মহাকাশ আইনে চাঁদ কোনো রাষ্ট্রের সার্বভৌম ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃত নয়।



