মঙ্গলবার
০৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের সামনে এখন ‘শিরশ্ছেদের আগে শেষ সুযোগ’: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও তেহরান এমন কোনো আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে। সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সামনে এখন ‘শিরশ্ছেদের আগে শেষ সুযোগ’ রয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে। একই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার প্রশ্নই আসে না।

এই ভিন্নমুখী বক্তব্যের মধ্যেই ট্রাম্প বলেন, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ চলছে এবং একটি ভালো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হলে তা সংকট নিরসনে সহায়ক হবে। তাঁর মতে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা বর্তমান আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদিও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমাধানে পৌঁছাতে আরও সময় লাগতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনায় হরমুজ প্রণালি এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর একটি। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি তেল এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর প্রণালিতে ইরানের আরোপিত বিধিনিষেধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে তেহরানের বক্তব্য, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই তারা নির্দিষ্ট রুট ব্যবহারের কথা বলছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নয়; হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের একটি গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তাঁর ভাষায়, দুই দেশের জন্য গ্রহণযোগ্য একটি রুট নির্ধারণের চেষ্টা চলছে, যা নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দেবে।

তবে এমন সমঝোতা হলেও সঙ্গে সঙ্গে পুরো প্রণালি খুলে দেওয়া হবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা দেননি তিনি।

কয়েক দিন আগেও ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এমনকি দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করেও হামলার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছিলেন। তবে সর্বশেষ বক্তব্যে তিনি সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয়টি সামনে আনেন এবং জানান, আলোচনার একটি ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ বহাল থাকবে এবং কার্যকর কোনো সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত সেই অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগের কারণ। ট্রাম্প আবারও বলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করা বা নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করা জরুরি।

পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে। তবে তেহরান বরাবরের মতোই এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের কর্মসূচি কেবল শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

একদিকে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য আলোচনা ও সমঝোতার কথা বলছে, অন্যদিকে ইরান সেই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের অবস্থানেও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন নেই।

ফলে কূটনৈতিক যোগাযোগের দাবি সামনে এলেও মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট দ্রুত সমাধানের পথে এগোচ্ছে—এমন ইঙ্গিত এখনো স্পষ্ট নয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন