

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির নতুন মেয়র জোহরান মামদানি দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একাধিক ইসরাইলপন্থি নির্বাহী আদেশ বাতিল করেছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনপন্থি ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রশংসা কুড়ালেও ইসরাইল সরকারের পক্ষ থেকে এসেছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। নিউইয়র্ক টাইমস এ তথ্য জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) মেয়র হিসেবে প্রথম কর্মদিবসেই মামদানি তাঁর পূর্বসূরি এরিক অ্যাডামসের জারি করা নির্বাহী আদেশগুলো বাতিল করেন। এসব আদেশ ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরের পর দেওয়া হয়েছিল, যেদিন অ্যাডামসের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।
বাতিল হওয়া আদেশগুলোর মধ্যে একটি ছিল ইসরাইল বয়কট–সংক্রান্ত বিধিনিষেধ। ওই আদেশ অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটির কর্মকর্তাদের এমন কোনো চুক্তিতে যুক্ত হতে নিষেধ করা হয়েছিল, যা ইসরাইল রাষ্ট্র, ইসরাইলি নাগরিক অথবা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের প্রতি বৈষম্যমূলক হতে পারে।
সমালোচকদের মতে, এরিক অ্যাডামস মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসব নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন, যা নতুন প্রশাসনকে বিব্রত করার কৌশল হিসেবেই দেখা হয়েছিল।
আরেকটি বাতিল হওয়া আদেশে ইন্টারন্যাশনাল হলোকাস্ট রিমেমব্রেন্স অ্যালায়েন্স (আইএইচআরএ) প্রণীত ইহুদি–বিদ্বেষের একটি বিতর্কিত সংজ্ঞা গ্রহণ করা হয়। ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এই সংজ্ঞা ব্যবহার করে ইসরাইলের নীতি বা সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনাকেও ইহুদি–বিদ্বেষ হিসেবে চিহ্নিত করা হতো, ফলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল।
প্যালেস্টাইন ইয়ুথ মুভমেন্টের সদস্য নাসরিন ইসা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ইসরাইল ও তাদের সমর্থকেরা ভিন্নমতকে অপরাধ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করে আসছে। তাঁর মতে, মামদানির এই সিদ্ধান্ত নিউইয়র্কবাসীর অধিকার ও ফিলিস্তিনিদের মর্যাদা রক্ষায় একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
একই সুরে কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর)-এর নিউইয়র্ক শাখার প্রধান আফাফ নাসের বলেন, ইসরাইলকে বিশেষ সুবিধা দিতে গিয়ে যে নীতিগুলো অসাংবিধানিকভাবে আরোপ করা হয়েছিল, সেগুলো বাতিল হওয়াই স্বাভাবিক।
তবে এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ইসরাইল সরকার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে জানায়, নবনির্বাচিত মেয়র তার অবস্থান স্পষ্ট করে তুলেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, এই পদক্ষেপ নেতৃত্বের পরিচয় নয়, বরং এটি ইহুদি–বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার শামিল।
ইসরাইলের প্রবাসীবিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই চিকলি মামদানিকে ‘হামাসের প্রতি সহানুভূতিশীল’ বলে মন্তব্য করেন এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডন মেয়র সাদিক খানের সঙ্গে তুলনা টানেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ নেই।
মন্তব্য করুন

