

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে গত ৭২ ঘণ্টায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ৪৮ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ আইএসপিআর বলছে, নিহত ব্যক্তিরা ‘সন্ত্রাসী’। প্রদেশটির কয়েকটি জেলায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধারাবাহিক এসব অভিযান চালানো হয়।
শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, সর্বশেষ ৪৮ ঘণ্টায় কোয়েটা, মাস্তুং, কালাত ও সিবি জেলায় অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে নিহত হয়েছেন ৩৬ জন।
এর মধ্যে কোয়েটার শাবান এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ২৬ জন নিহত হন। মাস্তুংয়ে ছয়জন এবং কালাতে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া সিবির ভাগ এলাকায় একটি থানায় হামলার চেষ্টা প্রতিহত করার সময় আরও দুজন নিহত হন।
এর আগে বুধবার কালাত জেলায় পৃথক একটি অভিযানে ১২ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল আইএসপিআর। দুই দফার অভিযানের হিসাব অনুযায়ী, তিন দিনে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮ জনে।
অভিযানে অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধারের পাশাপাশি কয়েকটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বা আইইডি ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। অভিযান শেষ হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট এলাকায় তল্লাশি চলছে। নিরাপত্তা বাহিনীর ভাষ্য, সেখানে আরও কোনো সশস্ত্র সদস্য অবস্থান করছে কি না, তা নিশ্চিত করতেই এই তল্লাশি।
বেলুচিস্তানে সাম্প্রতিক এই অভিযান এমন সময়ে হলো, যখন পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে দেশটিরবেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সশস্ত্র সহিংসতার প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান আবার ক্ষমতায় ফেরার পর পাকিস্তানে সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখোয়া এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেলুচিস্তানে।
সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (সিআরএসএস) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে পাকিস্তানের সহিংসতার বড় অংশই এই দুই প্রদেশে কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
প্রতিবেদনটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে পাকিস্তানে সহিংসতায় নিহত ব্যক্তিদের প্রায় ৯৬ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে। খাইবার পাখতুনখোয়ায় নিহত হয়েছেন ৪৭৫ জন, যা মোট নিহতের ৬১ শতাংশের বেশি। আর বেলুচিস্তানে নিহত হয়েছেন ৬৫ জন, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৩৪ শতাংশ।
ঘটনার সংখ্যার দিক থেকেও এগিয়ে খাইবার পাখতুনখোয়া। চলতি বছরে সেখানে ১৫১টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। দেশজুড়ে মোট ঘটনার এটি প্রায় ৫৭ শতাংশ। বেলুচিস্তানে ঘটেছে ৯৪টি, যা মোট ঘটনার প্রায় ৩৫ শতাংশ।
পরিসংখ্যান বলছে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংকট এখন মূলত এই দুই প্রদেশকে ঘিরেই বেশি তীব্র। ফলে নিয়মিত সামরিক অভিযান চালানোর পাশাপাশি এসব অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করাও দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


