

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গ্রুমিং গ্যাংয়ের অংশ হিসেবে শিশু ধর্ষণ ও মানব পাচারের অভিযোগে পাকিস্তানের সাবেক মন্ত্রী ও সদ্য পুনর্নির্বাচিত সংসদ সদস্য রুখসার আহমেদকে (৬২) ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।
তিনি দেশটির ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) রাজনীতিতে জড়িত এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের দল থেকে গত সপ্তাহে আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের আইনসভার সদস্য (এমপি) হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক অসুন্ধানে উঠে এসেছে এসব তথ্য।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত মাসে ম্যানচেস্টারের একটি পুলিশ স্টেশনে জামিনের শর্ত অনুযায়ী হাজির হওয়ার কথা থাকলেও উড়োজাহাজে ভ্রমণের মতো শারীরিকভাবে সুস্থ নন, এমন দাবি করে তিনি উপস্থিত হননি।
তবে একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে তাকে পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের মীরপুরে নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা যায়।
গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ (জিএমপি) রুখসার আহমেদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আবেদন করেছিল। তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে এক বিচারক সেই আবেদন নাকচ করে দেন। ম্যানচেস্টারের রাশহোলম এলাকায় দীর্ঘদিন বসবাসকারী রুখসার আহমেদ সেখানে একটি রেস্তোরাঁরও মালিক।
পুলিশের কাছে অন্তত দুজন নারী অভিযোগ করেছেন, ১৯৯০-এর দশকে তারা শিশু থাকাকালে রুখসার আহমেদ তাদের যৌন নির্যাতন করেন এবং একটি গ্রুমিং চক্রের মাধ্যমে তাদের পাচারের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।
পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের সময়ই তদন্তকারীরা প্রথম জানতে পারেন, রুখসার আহমেদ পাকিস্তানের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে তাকে আবারও জামিনের শর্ত অনুযায়ী হাজির হতে হবে। তিনি উপস্থিত না হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি বা তাকে প্রত্যর্পণের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে, যা যুক্তরাজ্য ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পিএমএল-এন-এর এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, তিনি অন্তত দুই দশক ধরে রুখসার আহমেদকে চেনেন।
তবে তার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তা তিনি জানতেন না। অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে রুখসার আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই রচডেলের গ্রুমিং গ্যাংয়ের মূল হোতা শাবির আহমেদকে ফেরত নেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিল পাকিস্তান। অন্যদিকে ম্যানচেস্টারের পাকিস্তানি কমিউনিটিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত রুখসার আহমেদের এ গ্রেপ্তারের খবর নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।