

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) প্রার্থীদের জন্য আরও কঠোর নীতি কার্যকর করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে প্রাথমিক সাক্ষাৎকার (ইন্টারভিউ) ছাড়াই আশ্রয় আবেদন সরাসরি ইমিগ্রেশন আদালতে পাঠানো যাবে। ফলে অনেক আবেদনকারী দ্রুত বহিষ্কার (ডিপোর্টেশন) প্রক্রিয়ার মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।
এতদিন অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী কিংবা বৈধ ভিসায় এসে নিজ দেশে নির্যাতনের শিকার হওয়ার দাবি করা আবেদনকারীরা তাদের দাবির প্রাথমিক বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়ের সুযোগ পেতেন। প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার পর ইউনাইটেড স্টেটস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর একজন প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা তাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দিতেন।
তবে ২৭ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়মে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী এবং যাদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ নেই, এমন আশ্রয়প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও প্রাথমিক সাক্ষাৎকার নেওয়ার বাধ্যবাধকতা বাতিল করা হয়েছে। ফলে ইউএসসিআইএস এখন এসব আবেদন সরাসরি ইমিগ্রেশন আদালতে পাঠাতে পারবে।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, নতুন এই নীতির আওতায় চার লাখ ৪০ হাজার থেকে প্রায় ১৪ লাখ ঝুলে থাকা (পেন্ডিং) আশ্রয় আবেদন আদালতে স্থানান্তরিত হতে পারে। এতে বহিষ্কার বা রিমুভাল আদেশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ও ইউএসসিআইএসের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আশ্রয় ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা মামলার জট কমাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইউএসসিআইএসের পরিচালক জোসেফ এডলো এক বিবৃতিতে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অনেক আবেদনকারী প্রকৃত সুরক্ষার প্রয়োজন না থাকলেও সময়ক্ষেপণ এবং কাজের অনুমতি পাওয়ার জন্য আশ্রয় ব্যবস্থার অপব্যবহার করেছেন। তার ভাষায়, নতুন নিয়মের মাধ্যমে প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে এবং রাষ্ট্রের সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
তবে অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মীরা এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, নতুন নিয়মের ফলে অনেক আবেদনকারী নিজেদের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ হারাতে পারেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের ডিপোর্টেশন নীতিকে আরও জোরদার করবে এবং প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে সুরক্ষা পাওয়ার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠবে।