

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গড়ে প্রতি রাতে ৩০ থেকে ৪০ জন নিরীহ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করার প্রকাশ্য আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভীর।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে প্রকাশিত সাবেক জিম্মি রম ব্রাসলাভস্কির পডকাস্ট ‘অক্টোবর ৮’-এর উদ্বোধনী পর্বে অংশ নিয়ে তিনি এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে সরকারি নীতির সঙ্গে সরাসরি দ্বিমত পোষণ করে বেন-গভীর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার দ্বিমত কোনো গোপন বিষয় নয়। আমি মনে করি গাজায় নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে গুপ্তহত্যা চালানো উচিত এবং প্রতি রাতে ৩০ থেকে ৪০ জনকে হত্যা করা দরকার। শুধু সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করা ব্যক্তিরা নয়, সেখানে এমন মানুষও আছে যারা বেঁচে থাকার যোগ্যই নয়। তারা মানুষই নয়।’
এই আলোচনার পাশাপাশি তিনি সমগ্র গাজায় ইহুদি বসতি পুনর্বাসন ও ফিলিস্তিনিদের গণ-অভিবাসন বা স্থানান্তরের পক্ষে যুক্তি দেন। বেন-গভীর বলেন, ‘গোটা গাজাকেই আমি আমাদের এলাকা মনে করি। শুধু গুশ কাতিফ নয়, পুরো গাজাজুড়েই বসতি স্থাপন করা উচিত।’
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বেন-গভীরের এই ধরনের প্রস্তাবকে সম্ভাব্য জাতিগত নির্মূল অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সরাসরি সামরিক হামলা পরিচালনার একক কর্তৃত্ব না থাকলেও জাতীয় পুলিশ ও কারা বিভাগের প্রধান হিসেবে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোটে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা রাখছেন কট্টরপন্থি এই নেতা।
এর আগেও তার ও অন্য ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের অনুরূপ বক্তব্যকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গণহত্যার অভিপ্রায়ের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, যা ইসরায়েল অস্বীকার করে আসছে। মার্কিন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ও কৌশলগত কূটনীতির অংশ হিসেবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী যখন গাজায় হামলা সীমিত করার সংকেত দিচ্ছে, ঠিক তখনই কট্টরপন্থিদের পক্ষ থেকে এই বিষোদ্গার সামনে এলো।


