

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে তাণ্ডব চালিয়েছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শক্তিশালী এই ঝড়টি উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করে। এর ফলে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘মন্থা’র প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশজুড়ে প্রবল বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া ও জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে। পাশের রাজ্য ওড়িশারও অন্তত ১৫টি জেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
কোনাসীমা জেলার মাকানাগুদেম গ্রামে এক নারী প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় পুলিশের তথ্যে জানা গেছে, প্রবল বাতাসে একটি তালগাছ ভেঙে তার ওপর পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।
অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের প্রাথমিক হিসাবে দেখা গেছে, ঘূর্ণিঝড়ে ৩৮ হাজার হেক্টর কৃষিজমির ফসল এবং ১ লাখ ৩৮ হাজার হেক্টর উদ্যান ফসল সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে ৭৬ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ঝড়ে বিপর্যস্ত অঞ্চলগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২১৯টি অস্থায়ী চিকিৎসা শিবির চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি গবাদিপশুর জন্য ৮৬৫ টন খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া বিভাগ ইতোমধ্যেই অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোর জন্য রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ঝড়ের প্রভাবে সাগরে প্রায় এক মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হতে পারে, যা নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত করতে পারে।
শ্রীকাকুলাম, বিশাখাপত্তনম, নেল্লোর, কাকিনাডা ও কোনাসীমা জেলায় তীব্র বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাস অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে উপ্পাদা–কাকিনাডা বিচ রোডে বিশাল ঢেউয়ে সড়কের অংশ ভেঙে পড়ায় ওই পথ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
কাকিনাডা বন্দরে বর্তমানে ১০ নম্বর বিপৎসংকেত দেখানো হচ্ছে—যা সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ। বিশাখাপত্তনম, গাঙ্গাভারাম ও কালিঙ্গপত্তনম বন্দরে ৯ নম্বর, আর মাচিলিপত্তনমসহ অন্যান্য কয়েকটি বন্দরে ৮ নম্বর বিপদ সংকেত জারি আছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঝড়টি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়লেও বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা এখনও রয়ে গেছে। তাই উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।
সূত্র: এনডিটিভি
মন্তব্য করুন
