

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মিষ্টিতে পোকা পাওয়ার অভিযোগ তুলে দোকানির কাছে ক্ষতিপূরণ হিসেবে নগদ টাকা ও আইফোন দাবি এবং তা না দিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর দম্পতির বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ার প্রফুল্লনগরে। অভিযুক্ত দম্পতি হলেন সহেলি দে সূত্রধর ও তার স্বামী সুব্রত দে। তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে হাবড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন শ্রীকৃষ্ণ সুইটসের মালিক নয়ন ঘোষ। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে সহেলি ও সুব্রত হাবড়ার প্রফুল্লনগরে অবস্থিত শ্রীকৃষ্ণ সুইটসে যান। মিষ্টি খাওয়ার পর তারা দাবি করেন, মিষ্টির মধ্যে পোকা রয়েছে। এ নিয়ে দোকানের মালিকের সঙ্গে তাদের তর্কাতর্কি হয়।
পরে ওই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দোকানের মালিক নয়ন ঘোষের হোয়াটসঅ্যাপে পোকা ধরা মিষ্টির ছবি ও ভিডিও পাঠানো হয় বলে অভিযোগ। দোকানির দাবি, ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে বারবার ফোন করা হয়। একই সঙ্গে ওইদিন সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অভিযুক্তদের বাড়িতে যেতে বলা হয়।
দোকানি নয়ন ঘোষের দাবি, এরপর তিনি অভিযুক্ত দম্পতির বাড়িতে গেলে তারা জানান, আইফোন ও নগদ অর্থ দেওয়া হলে ওই ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলবেন। অন্যথায় সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।
দোকানির আরও অভিযোগ, মিষ্টির মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে পোকা রাখা হয়েছিল। পরে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে।
নয়ন ঘোষ দাবি করেন, তার মিষ্টি তৈরির কারখানায় আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে খাদ্যসুরক্ষা বিধি মেনে পরিচ্ছন্ন পরিবেশে মিষ্টি তৈরি করা হয়। এ কারণে মিষ্টির মধ্যে পোকা থাকার বিষয়টি নিয়ে তার সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
তার অভিযোগ, ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন করা এবং অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যেই এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
ঘটনার পর সহেলি দে সূত্রধর ও সুব্রত দের বিরুদ্ধে হাবড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন দোকান মালিক নয়ন ঘোষ। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত দম্পতিকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগে মামলা হয়েছে। তবে মিষ্টিতে পোকা থাকার অভিযোগ এবং দোকানির করা ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।



