বুধবার
২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাবার টাকা চুরি করে প্রেমিকার সঙ্গে রাতযাপন, আইফোন উপহার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম
অভিযুক্ত যশ ধনুকা আগরওয়াল ও তার প্রেমিকা পুবালি দত্ত। ছবি: সংগৃহীত
expand
অভিযুক্ত যশ ধনুকা আগরওয়াল ও তার প্রেমিকা পুবালি দত্ত। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের আসামে ২৫ বছর বয়সী এক যুবককে নিজের বাবার লকার ভেঙে প্রায় ৫০ লাখ রুপি নগদ ও স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, চুরি করা অর্থের একটি বড় অংশ নিজের প্রেমিকার পেছনে খরচ করেছেন অভিযুক্ত যশ ধনুকা আগরওয়াল।

পুলিশ জানায়, গত ১১ আগস্ট পরিবারের সদস্যরা বাড়ির বাইরে থাকার সুযোগে যশদের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। তার বাবার ঘরে থাকা লকার ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারটি ব্যবসার কাজে ওই নগদ অর্থ বাড়িতে রেখেছিল।

তদন্তে পুলিশের সন্দেহ হয়, চুরির ঘটনায় পরিবারের ভেতরের কেউ জড়িত। সাইবার নিরাপত্তা সেলের সহায়তায় তদন্ত করে যশের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। ঘটনার পর তিনি জোড়হাট থেকে গুজরাটের আহমেদাবাদে চলে গিয়েছিলেন।

পরে যশের বাবা আহমেদাবাদে গিয়ে তাকে জোড়হাটে ফিরিয়ে আনেন এবং পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যে যশ দাবি করেন, জিতু সোমানি ও রোহিত প্রসাদ নামক দুই বন্ধুর সঙ্গে মিলে তারা চুরির পরিকল্পনা করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বন্ধুরাই তাকে টাকা নেওয়ার উপায় সম্পর্কে পরামর্শ দেন এবং একজন তালাচাবি মিস্ত্রির সহায়তা নেওয়া হয়।

যশ বলেন, চুরি করা অর্থ দিয়ে তারা পার্টি করেন। এর মধ্যে তার প্রেমিকা পুবালি দত্তও ছিলেন। প্রেমিকার পেছনে তিনি প্রায় ৫ লাখ রুপি খরচ করেছেন বলেও জানান।

যশের দাবি, জিতু তাকে ‘ম্যানিপুলেট’ করেছিলেন। একই সঙ্গে নিজের কাজের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

তদন্তকারীদের সন্দেহ, চুরি করা অর্থের একটি অংশ দীর্ঘদিনের প্রেমিকা পুবালি দত্তের পেছনে ব্যয় করেছেন যশ। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে প্রায় দেড় লাখ রুপি দামের একটি আইফোন কিনে দেন তিনি। এ ছাড়া নগদ অর্থ দেওয়ার পাশাপাশি কয়েক দিন প্রেমিকার সঙ্গে বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্টেও অবস্থান করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে পুবালি দত্তকে এখনো মামলার আসামি করা হয়নি। তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চুরির ঘটনায় যশের দুই বন্ধু জিতেন্দ্র সোমানি ও রোহিত প্রসাদের নাম এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ সন্দেহ করছে, চুরির পরিকল্পনায় তাদের ভূমিকা ছিল এবং পরে চুরি করা স্বর্ণালংকার সরিয়ে ফেলতেও তারা সহযোগিতা করেছেন। দুজনই বর্তমানে পলাতক।

যশ পরিবারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে বাড়িতে ব্যবসার জন্য বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ রাখা আছে এ তথ্য তার জানা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন