

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের হরিয়ানার সোনিপতে একটি বৃদ্ধাশ্রমে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তবে শেষ বিদায়ে তিন মেয়ের কেউ উপস্থিত না থেকে ভিডিও কলে বাবার শেষকৃত্য দেখেছেন। পরে তাদের একজন অনলাইনে পাঁচ হাজার ১০০ রুপি পাঠিয়ে যথাযথভাবে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার অনুরোধ জানান।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মৃত ব্যক্তির নাম শিবচরণ রামরতন গুপ্ত। মুম্বাইয়ের সাবেক এই ব্যবসায়ী প্রায় দুই বছর ধরে সোনিপতের একটি বৃদ্ধাশ্রমে বসবাস করছিলেন। স্ত্রী মীনা গুপ্তও তার সঙ্গে সেখানে ছিলেন। তবে তিনি আগেই মারা যান।
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে শিবচরণ গুপ্ত মারা যান। এরপর বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ তার তিন মেয়েকে বিষয়টি জানায়।
কর্তৃপক্ষের জানানোর পরও মেয়েরা কেউ সোনিপতে আসতে পারেননি। একজন ছিলেন নেপালে, একজন উত্তর প্রদেশে এবং আরেকজন মুম্বাইয়ে। তারা ভিডিও কলের মাধ্যমে বাবার শেষকৃত্যে অংশ নেন। পরে বৃদ্ধাশ্রমের কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় তার দাহকার্য সম্পন্ন করা হয়।
বৃদ্ধাশ্রমের প্রশাসক আনন্দ কুমার জানান, শিবচরণ গুপ্ত আশ্রমে থাকা একটি মোবাইল ফোন দিয়ে নিয়মিত মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতেন। তবে অসুস্থ হওয়ার পর মেয়েদের ফোন আসা অনেক কমে যায়। তিনি বলেন, প্রায় ২০ দিন আগে মেয়েদেরকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু এরপরও তারা তাকে দেখতে আসেননি।
শিবচরণের মৃত্যুর পর আবারও মেয়েদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানানো হয়, চাইলে তারা সোনিপতে এসে শেষকৃত্যে অংশ নিতে পারেন। কিন্তু তারা সময়ের অভাবের কথা জানিয়ে আসতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
নেপালে বসবাসকারী এবং পেশায় শিক্ষক বড় মেয়ে অনিতা অনলাইনে ৫ হাজার ১০০ রুপি পাঠিয়ে বাবার শেষকৃত্য যথাযথভাবে সম্পন্ন করার অনুরোধ জানান।
শেষকৃত্য শেষে মেয়েরা বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষকে পুরো অনুষ্ঠানের ভিডিও পাঠানোর অনুরোধও করেন। ভিডিও কলে তাদের একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘আর কতক্ষণ লাগবে? আমাদের খেতে হবে, তারপর গোসল করতে হবে।’
বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ জানায়, শিবচরণ গুপ্ত তার তিন মেয়েকেই উচ্চশিক্ষিত করে গড়ে তুলেছিলেন। তাদের মধ্যে দুজন বর্তমানে শিক্ষকতা করছেন। বড় মেয়ে নিশা উত্তর প্রদেশের আজমগড়ে থাকেন এবং ছোট মেয়ে প্রিয়া মুম্বাইয়ে বসবাস করেন। তিনজনই বিবাহিত এবং নিজ নিজ পরিবার নিয়ে থাকেন।