শুক্রবার
০৭ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
০৭ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্রদল নেতাকে বেধড়ক পেটাল শিবিরকর্মী

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. আরাফাত। ছবি: সংগৃহীত
expand
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. আরাফাত। ছবি: সংগৃহীত

ফেসবুকে কমেন্ট করাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজে এক ছাত্রদল নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এ ঘটনায় শিবিরকর্মী দাবি করে চারজনের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম মো. আরাফাত। তিনি হিসাববিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তার দাবি, গত বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কলেজের একটি কর্মসূচি চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

আরাফাত বলেন, কর্মসূচির মাঝখানে সাদিক আব্দুল্লাহ তাকে ইশারায় ডাকেন। পরে বিজ্ঞান ভবনের সামনে গেলে সাদিক আব্দুল্লাহ, আরমান মজুমদার, তাওসিফ রেজা ও আব্দুল্লাহ তামিম তাকে মারধর করেন। তিনি অভিযোগ করেন, মারতে মারতে তাকে কলেজ গেট পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়।

ভুক্তভোগীর দাবি, ওই সময় এক পথচারী ভিডিও ধারণ করলে অভিযুক্তরা তাকে দিয়ে ভিডিওটি মুছে ফেলতে বাধ্য করেন।

আরাফাত আরও বলেন, পরে তাকে জোর করে একটি লিখিত স্ক্রিপ্ট পড়ে বক্তব্য দিতে বলা হয় এবং সেই বক্তব্য ভিডিও করে রাখা হয়।

মারধরের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, শিবির-সংশ্লিষ্ট একটি ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করে তিনি নিজেকে ছাত্রদলকর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। সেই কমেন্টের জেরেই তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে নিয়ে কলেজের একটি গ্রুপে পোস্ট দেওয়াকেও কেন্দ্র করে তাকে আরও মারধর করা হয় বলে তার দাবি।

ভুক্তভোগী জানান, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত চারজনের বিরুদ্ধে জিডি করেছেন।

এ কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘মারধরের পর আমরা আরাফাতকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই। চিকিৎসক বলেছেন, তার পায়ের অবস্থা খারাপ।’

অন্যদিকে, মহসিন কলেজ শিবিরের নেতা ইয়াসিন পারভেজ বলেন, তিনি মারামারির বিষয়টি শুনেছেন। তবে অভিযুক্ত চারজনের কেউ শিবিরের সাথে সম্পৃক্ত নয় বলে দাবি করেন।

অভিযুক্ত আরমান মজুমদার বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’ শিবিরের সাথে সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ‘ক্ষুদ্র সমর্থক’ বলে পরিচয় দেন।

ঘটনার বিষয়ে জানতে মহসিন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক বেনুয়ারা বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। প্রথমে তার স্বামী ফোন ধরে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে জানান। পরে একাধিকবার কল করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন