রবিবার
০২ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
০২ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফের ভারতে বিক্ষোভের উত্তাপ, মোদির বাসভবন অভিমুখে মিছিলের ডাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৬, ১১:১১ এএম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
expand
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

ই-২০ পেট্রোল চালুর বিরোধিতা ঘিরে ভারতে আবারও আন্দোলনের আবহ তৈরি হয়েছে। এ ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবন অভিমুখে মিছিলের ঘোষণা দিয়েছেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির (এএপি) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

তিনি জানিয়েছেন, দুই লাখের বেশি মানুষের স্বাক্ষরসংবলিত একটি আবেদনপত্র নিয়ে আগামী ৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনের উদ্দেশে মিছিল করবেন তারা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, শনিবার (১ আগস্ট) ‘ন্যাশনাল টাউনহল অ্যাগেইনস্ট ই-২০’ অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন কেজরিওয়াল। তিনি বলেন, ই-২০ পেট্রোল চালুর বিরোধিতা করে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে করা অনলাইন আবেদনপত্রে ইতোমধ্যে দুই লাখের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। তিনি নিজেই আবেদনপত্রের মুদ্রিত কপি প্রধানমন্ত্রীকে পৌঁছে দেবেন।

কেজরিওয়াল বলেন, “কয়েক দিন আগে আমি দেশবাসীকে এই আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করার আহ্বান জানিয়েছিলাম। এখন পর্যন্ত দুই লাখের বেশি মানুষ এতে সাড়া দিয়েছেন। আগামী ৪ আগস্ট দুপুর ১২টায় আমি নিজে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে আবেদনপত্র জমা দেব। আমার সঙ্গে মাত্র ১০০ জন থাকবেন, যারা পুলিশের লাঠিচার্জ বা কারাবাসকে ভয় পান না।”

তিনি আরও বলেন, “ই-২০ পেট্রোল যদি সত্যিই নিরাপদ হতো, তাহলে সরকার এ বিষয়ে খোলামেলা আলোচনায় বসত। আমরা আমাদের প্রমাণ উপস্থাপন করতাম, তারাও তাদের তথ্য দিত।”

তবে কেজরিওয়ালের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন দিল্লি বিজেপির সভাপতি হর্ষ মালহোত্রা। তিনি বলেন, ই-২০ জ্বালানির কারণে গাড়ির ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এমন অন্তত ১০০টি ঘটনার প্রমাণ দেখাতে হবে।

ই-২০ পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, এতে গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতি হচ্ছে এবং জ্বালানির মাইলেজও কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি তারা দাবি করছেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করির দুই পুত্র ইথানল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকায় সরকার এ নীতি বাস্তবায়নে আগ্রহী।

কেজরিওয়ালের আরও অভিযোগ, ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবেই দেশে ই-২০ নীতি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট রাখা যায়।

এদিন তিনটি দাবি তুলে ধরেন এএপি প্রধান। সেগুলো হলো—পেট্রোল পাম্পে সাধারণ পেট্রোল ও ই-২০ জ্বালানির মধ্যে গ্রাহকদের পছন্দের সুযোগ নিশ্চিত করা, পেট্রোলের দাম কমানো এবং ইথানলের মূল্য হ্রাস করা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন