

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নিট (এনইইটি) পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশের অভিযানের প্রতিবাদে দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে কংগ্রেস। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীসহ দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। পরে রাতের দিকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সরকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করছে। তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেছেন।
মঙ্গলবার লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা ও কংগ্রেসের অন্যান্য নেতারা। পরে পুলিশ তাদের আটক করে। রাহুলকে ছত্রশাল স্টেডিয়ামে এবং প্রিয়াঙ্কাকে মন্দির মার্গ থানায় নেওয়া হয়। রাতে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়।
আটকের পর প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় রাহুল গান্ধী সরকারের কাছে পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। এগুলো হলো:
রাহুল গান্ধী বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একাধিক সমস্যা তৈরি হয়েছে। কেন বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে, কেন উচ্চশিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থা সাধারণ পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে—এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া প্রয়োজন।
তিনি জানান, বিরোধীরা চান সংসদের উভয় কক্ষে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হোক। শিক্ষার্থীদের দাবির পক্ষে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদেরও তিনি ধন্যবাদ জানান।
নিটসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি এখন সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
এর আগে ধর্নাস্থলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং তার দাবিগুলো শোনেন। তবে পরে তিনি রাহুলের অবস্থানের সমালোচনা করেন।
জিতেন্দ্র সিংয়ের অভিযোগ, সংসদে আলোচনার দাবি থেকে সরে এসে এখন কংগ্রেস শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলছে। তিনি বলেন, সরকার সংসদে নিট ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও কংগ্রেসের সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের সমস্যাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে বিরোধীরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, সরকার আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও কংগ্রেস রাজনৈতিক কর্মসূচির পথ বেছে নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধানের চেয়ে বিরোধীদের লক্ষ্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা।