

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক জানিয়েছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্যের পদ কেবল দুটি সুনির্দিষ্ট কারণে শূন্য হতে পারে। যদি তিনি নিজ দল থেকে পদত্যাগ করেন আর যদি তিনি সংসদে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট প্রদান করেন। তবে দল থেকে কাউকে ‘বহিষ্কার’ করলে তার সংসদ সদস্য পদ চলে যাবে, এমন কোনো কথা সংবিধানে বলা নেই। এর পেছনে একটি গভীর গণতান্ত্রিক যুক্তি রয়েছে বলে ধারণা করি।
বুধবার (২২ জুলাই) সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের ঘোষণার পর গণমাধ্যমকে তিনি এ কথা বলেন।
শাহদীন মালিক বলেন, ‘যদি বহিষ্কারের কারণে সংসদ সদস্য পদ চলে যেত, তবে একজন সংসদ সদস্যকে সব সময় দলীয় নেতৃত্বের বা প্রধানের মর্জির ওপর নির্ভর করতে হতো এবং তাদের বিরাগভাজন হওয়ার ভয়ে তটস্থ থাকতে হতো। এতে যে লাখ লাখ মানুষ ভোট দিয়ে তাকে নির্বাচিত করেছেন, তাদের গুরুত্ব ও জনমতের প্রতিফলন বাধাগ্রস্ত হতো। সম্ভবত এ কারণে ৭০ অনুচ্ছেদে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।’
অতীতের বিভিন্ন উদাহরণ দিয়ে এই সংবিধান বিশেষজ্ঞ জানান, ‘আওয়ামী লীগের আমলে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী নিজ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন বলে তার সদস্য পদ চলে গিয়েছিল। ডা. মুরাদ ও গোলাম মাওলা রনি, তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও তারা নিজেরা পদত্যাগ করেননি কিংবা দলের বিপক্ষে ভোট দেননি। ফলে তারা তাদের পূর্ণ মেয়াদে সংসদ সদস্য হিসেবে বহাল ছিলেন।’
তবে গাজী নজরুল ইসলামের এমপি পদ বাতিল হওয়া ইঙ্গিত দিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম। বুধবার বিকালে তিনি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মূল পরিচয় ও আইনি ভিত্তি তৈরি হয় দলগত কাঠামোর ওপর ভর করে। তাই দল যদি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সদস্যকে বহিষ্কার করে এবং তার মনোনয়ন প্রত্যাহার বা বাতিল করে, তবে তার আসন শূন্য হওয়াটাই স্বাভাবিক আইনগত প্রক্রিয়া।’
সূত্র: এশিয়া পোস্ট