

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। মঙ্গলবার (২ জুন) বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় গৃহীত শোকপ্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক অনুলিপি ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।
অনুলিপিতে বলা হয়, চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বিধানসভার অধিবেশনে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু তার শোকবার্তায় প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মৃতিচারণ করেন এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
স্পিকার বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার একটি হাসপাতালে দীর্ঘ অসুস্থতার পর মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
বক্তব্যে স্পিকার জানান, ১৯৪৬ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রদেশের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। তিনি দিনাজপুর মিশনারি স্কুল, দিনাজপুর গার্লস স্কুল এবং পরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে অধ্যয়ন করেন।
তিনি আরও বলেন, ১৯৮১ সালে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর বেগম খালেদা জিয়া সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন। ১৯৮২ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন এবং ১৯৮৪ সালে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।প্রবাস সংবাদ
বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার নেতৃত্ব বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চারটি সাধারণ নির্বাচনে একাধিক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি সবগুলোতেই জয়ী হন। ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে তিনি তিন দফায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
স্পিকার বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, যিনি গণতান্ত্রিক সংস্কার, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নারী ক্ষমতায়নে কাজ করেছেন।
শোকপ্রস্তাব শেষে বিধানসভার সদস্যরা এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন। পরে প্রধান সচিবকে শোকবার্তা পরিবারের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয় এবং অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রস্তাবের অনুলিপি ঢাকায় প্রেরণ করেছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা সচিবালয়। গত ২ জুন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় গৃহীত শোক প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক অনুলিপি ঢাকায় প্রেরণ করে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা সচিবালয়ের পক্ষ থেকে প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি সুমেন্দ্রনাথ দাস স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই শোক প্রস্তাবের অংশবিশেষ পাঠানো হয়। বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে পাঠানো ওই চিঠিতে ঢাকাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনারকে অনুরোধ জানানো হয়, যাতে এটি মরহুমার নিকটাত্মীয়দের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৩ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধিবেশনে গৃহীত শোকপ্রস্তাবে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও অবদানের কথা স্মরণ করা হয়।
বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন, কলকাতার মাধ্যমে এই বার্তা মরহুমার পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
