

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিআইএমের মতো দলগুলো যতটা না লাফালাফি করছে, তার থেকে বেশি লাফালাফি করছে বাংলাদেশের জামাতিরা।
সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় কলকাতার ভবানীপুর ও ক্যামাক স্ট্রিটে আয়োজিত ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে তিনি অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘সীমান্ত সুরক্ষিত করা, অ-ভারতীয়দের দরজা দেখিয়ে দেয়া, অনুপ্রবেশকারীদের হটাও―যাও, যেখান থেকে এসেছিল সেই রাস্তা দিয়ে ফেরত যাও। বাংলাদেশে যাও। আরে এখানকার তৃণমূল, সিপিএম, কংগ্রেস যত না চিড়বিড়ানি করছে, শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে বাংলাদেশের জামাতিদের চিড়বিড়ানি অনেক বেশি হয়ে গেছে। আরে, ভাই আমি ভয় পাওয়ার লোক নই। মাথা নোয়ানোর লোকও নই। ভয় দেখানোর কোনো দরকার নেই। বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা সম্পন্ন করার কাজ বিজেপির এই মুখ্যমন্ত্রী করবে। সবার আগে দেশ। দেশকে সুরক্ষিত রাখার কাজ বিজেপির এই সরকার করবে।’
শুভেন্দু জানান, তার সরকারের কাছে সবার আগে রাষ্ট্র ও দেশ রক্ষা। ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাতিল করা হয়েছে এবং এখন তাদের প্রত্যর্পণের সময় চলে এসেছে। এর আগে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পরই তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি দেওয়া হবে।
এদিকে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে ধর্মীয় শ্রেণীবিন্যাসের ভিত্তিতে পরিচালিত সমস্ত প্রকল্প বন্ধ করার ঘোষণা দিয়ে ইমাম, মোয়াজ্জেম ও পুরোহিত ভাতা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, সরকারের কাজ কি ইমাম-মোয়াজ্জেমদের ভাতা দেওয়া, নাকি শিক্ষার উন্নতি ও চাকরির ব্যবস্থা করা?
তিনি জানান, ভাতার পেছনে যে অর্থ ব্যয় হতো, তা এখন থেকে ‘বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’ প্রকল্পে দেওয়া হবে, যাতে হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান সব ধর্মের শিক্ষার্থীরা উপকৃত হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, পশ্চিমবঙ্গে আর কোনো তোষণের রাজনীতি চলবে না।
অনুষ্ঠানে মমতা ব্যানার্জিকে তীব্র কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, মিত্র ইনস্টিটিউশনের যে চারটি বুথ রয়েছে, তার প্রত্যেকটিতেই মমতা হেরেছেন এবং বিজেপি লিড পেয়েছে। যে নেত্রী নিজের বুথেই জিততে পারেন না, রাজ্যের মানুষ তাকে দরজা দেখিয়ে দিয়েছেন এবং তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে।
একই সাথে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিসহ চারজন সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাদের একাধিক সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে। এই সমস্ত দুর্নীতিবাজরা এতদিন ধরে যা লুটপাট করেছে, আগামী দিনে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তদন্ত করে তাদের কারাগারে পাঠানোর কাজ করা হবে। অবসান ঘটবে গত ১৫ বছরের বিধায়কদের নিষ্ক্রিয়তার এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য দ্রুতই একটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
