

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পশ্চিমবঙ্গে পশু জবাই নিয়ে নতুন গাইডলাইন জারি করেছে রাজ্য সরকার। নির্ধারিত নিয়ম মেনে জবাই করতে হবে, অন্যথায় হতে পারে জেল ও জরিমানা—এমন কঠোর বার্তাই দিয়েছে প্রশাসন।
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রকাশিত এ নির্দেশনা ঘিরে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা ও বিতর্ক। বিশেষ করে ধর্মীয় কোরবানির ক্ষেত্রে আরোপিত নানা শর্তে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গরু, মহিষ বা বলদ জবাইয়ের আগে সংশ্লিষ্ট পুরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির পাশাপাশি সরকারি পশু চিকিৎসকের যৌথ অনুমোদন নিতে হবে। এ জন্য পশুর ফিটনেস সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়, কেবল ১৪ বছরের বেশি বয়সী পশু অথবা বার্ধক্য কিংবা অসুস্থতার কারণে স্থায়ীভাবে কর্মক্ষমতা হারানো পশুই জবাই করা যাবে।
এ ছাড়া প্রকাশ্য স্থানে পশু জবাই বা সরকারি নির্দেশনা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। নতুন এ নিয়ম কার্যকর হওয়ায় কোরবানি আয়োজন নিয়ে অনেকের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
উত্তর প্রদেশের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি এখন পশ্চিমবঙ্গেও দৃশ্যমান হচ্ছে। সাধারণ মুসলিম নাগরিকরা মনে করছেন, এ আইনি কড়াকড়ি আসলে একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে ধর্মীয় আচার পালনে বাধা দেওয়া এবং তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার পরিকল্পিত কৌশল।
বারুইপুরের স্থানীয় এক বাসিন্দার মতে, সরকারি অনুমোদন পাওয়া এবং ১৪ বছরের বুড়ো গরু খুঁজে বের করে কোরবানি দেওয়া কার্যত অসম্ভব। সাধারণ মানুষের মধ্যে এ আতঙ্ক কাজ করছে যে, বৈধভাবে গরু নিয়ে যাওয়ার পথেও তাদের মৌলবাদী হেনস্তার শিকার হতে হবে এবং হচ্ছেও। প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে অনেকে মুসলিম সমাজকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করার অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার এ ধরনের নির্দেশিকা জারির মাধ্যমে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক মেরূকরণকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে।
সমালোচকদের দাবি, আইনের আড়ালে হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করাই এ সরকারের প্রধান লক্ষ্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুমন কল্যাণের মতে, যখন একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের খাদ্যাভ্যাস ও ধর্মীয় রীতিকে টার্গেট করা হয়, তখন তা কেবল আইনগত বিষয় থাকে না বরং তা রাষ্ট্রের সাম্প্রদায়িক চরিত্রকে প্রকাশ করে দেয়। এটি পরিষ্কারভাবে মেরূকরণের রাজনীতি, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
