সোমবার
১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পশ্চিমবঙ্গে পশু কোরবানি নিয়ে নিষেধাজ্ঞা, আতঙ্কে মুসলিমরা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
এআই দিয়ে তৈরিকৃত ছবি
expand
এআই দিয়ে তৈরিকৃত ছবি

পশ্চিমবঙ্গে পশু জবাই নিয়ে নতুন গাইডলাইন জারি করেছে রাজ্য সরকার। নির্ধারিত নিয়ম মেনে জবাই করতে হবে, অন্যথায় হতে পারে জেল ও জরিমানা—এমন কঠোর বার্তাই দিয়েছে প্রশাসন।

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রকাশিত এ নির্দেশনা ঘিরে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা ও বিতর্ক। বিশেষ করে ধর্মীয় কোরবানির ক্ষেত্রে আরোপিত নানা শর্তে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গরু, মহিষ বা বলদ জবাইয়ের আগে সংশ্লিষ্ট পুরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির পাশাপাশি সরকারি পশু চিকিৎসকের যৌথ অনুমোদন নিতে হবে। এ জন্য পশুর ফিটনেস সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নির্দেশিকায় আরও বলা হয়, কেবল ১৪ বছরের বেশি বয়সী পশু অথবা বার্ধক্য কিংবা অসুস্থতার কারণে স্থায়ীভাবে কর্মক্ষমতা হারানো পশুই জবাই করা যাবে।

এ ছাড়া প্রকাশ্য স্থানে পশু জবাই বা সরকারি নির্দেশনা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। নতুন এ নিয়ম কার্যকর হওয়ায় কোরবানি আয়োজন নিয়ে অনেকের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

উত্তর প্রদেশের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি এখন পশ্চিমবঙ্গেও দৃশ্যমান হচ্ছে। সাধারণ মুসলিম নাগরিকরা মনে করছেন, এ আইনি কড়াকড়ি আসলে একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে ধর্মীয় আচার পালনে বাধা দেওয়া এবং তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার পরিকল্পিত কৌশল।

বারুইপুরের স্থানীয় এক বাসিন্দার মতে, সরকারি অনুমোদন পাওয়া এবং ১৪ বছরের বুড়ো গরু খুঁজে বের করে কোরবানি দেওয়া কার্যত অসম্ভব। সাধারণ মানুষের মধ্যে এ আতঙ্ক কাজ করছে যে, বৈধভাবে গরু নিয়ে যাওয়ার পথেও তাদের মৌলবাদী হেনস্তার শিকার হতে হবে এবং হচ্ছেও। প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে অনেকে মুসলিম সমাজকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করার অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার এ ধরনের নির্দেশিকা জারির মাধ্যমে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক মেরূকরণকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে।

সমালোচকদের দাবি, আইনের আড়ালে হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করাই এ সরকারের প্রধান লক্ষ্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুমন কল্যাণের মতে, যখন একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের খাদ্যাভ্যাস ও ধর্মীয় রীতিকে টার্গেট করা হয়, তখন তা কেবল আইনগত বিষয় থাকে না বরং তা রাষ্ট্রের সাম্প্রদায়িক চরিত্রকে প্রকাশ করে দেয়। এটি পরিষ্কারভাবে মেরূকরণের রাজনীতি, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন