মঙ্গলবার
১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সালমান-রেহানা ফোনালাপ

‘এক সেকেন্ডও দেরি কইরেন না, আল্লাহ যদি বাঁচাই রাখে কথা হবে’

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
সালমান এফ রহমান ও শেখ রেহানা
expand
সালমান এফ রহমান ও শেখ রেহানা

ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ওই দিনই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বোনকে সঙ্গে নিয়ে দেশ ত্যাগ করেন। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদেরও দেশ ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ সময় একাধিক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করা হয়।

এদের মধ্যে ছিলেন শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তাকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যেতে ফোন করেন শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা। সম্প্রতি সেই ফোনালাপের বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত হয়েছে।

জুলাই অভ্যুত্থানে কারফিউ দিয়ে গণহত্যায় উসকানিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল আজ (১৮ মে)। এ মামলার আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তাদের বিরুদ্ধে নবম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন সিআইডির ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ উপ পরিদর্শক (এসআই) আতিকুর রহমান। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সালমান এফ রহমানের সঙ্গে শেখ রেহানার একটি ফোনালাপ বাজিয়ে শোনানো হয় ট্রাইব্যুনালে। কথপোকথনের শুরু থেকেই শেখ হাসিনার এই উপদেষ্টাকে সরে যেতে তাড়া দেন শেখ রেহানা। দুই মিনিট ৯ সেকেন্ডের সেই কথপোকথনটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

সালমান: হ্যালো।

কর্নেল রাজিব: সালামালাইকুম স্যার। স্যার কর্নেল রাজিব বলছি স্যার। রেহানা আপা একটু কথা বলতো ওভার টু ওভার স্যার।

সালমান: কে?

কর্নেল রাজিব: রেহানা আপা, রেহানা আপা। জ্বি স্যার।

রেহানা: স্লামালাইকুম ভাইয়া।

সালমান: হ্যাঁ, অলাইকুমল্লাম।

রেহানা: জি আপনি কই?

সালমান: আমি আমার বাসায়।

রেহানা: থাইকেন না।

সালমান: থাকবো না, হ্যাঁ ঠিকাছে।

রেহানা: আমরা অন্য জায়গায় আছি, আমরা মানে ববি, টিউলিপ ওকে কনভিন্স করছে তো... কল না করতে পারলেও আল্লাহ যদি বাঁচাই রাখে কথা হবে।

সালমান: আচ্ছা, তো তোমরা অন্য জায়গায় চলে গেছ? আপাও গেছে?

রেহানা: জি ভাই। তো আপনি...

সালমান: আমরা যদি বাইর হইতে পারি, আমরা বের হয়ে যাবো। আনিসুল হককেই বের করে ফেলি সাথে?

রেহানা: হ্যাঁ, হ্যাঁ, যেটা হয় আপনি ইমিডিয়েটলি ওই যে শায়ান আর জয় যেটা বলছে আপনি ওইটা করেন।

সালমান: ঠিকাছে, ঠিকাছে। ওকে।

রেহানা: এক সেকেন্ডও দেরি কইরেন না। কারণ সম্পার বাসায় গেছে ফটো তুলছে এবং চারদিকে মানে সাদা জোব্বা পরা দাড়িওয়ালা এই আরকি। ইউ শুড বি (you should be) মানে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। আর আমি কনভিন্স করতেছি যে, মানে যা আছে ঐটা করবো আরকি। এখানে একদম থাকা সেইফ না।

সালমান: আচ্ছা ঠিকাছে তাহলে ও কি বলবে মার্শাল ‘ল’ ডিক্লার করতেছে না সে?

রেহানা: ঐগুলো এখন বাদ দেন, ইউ শুড বি লিভ ইমিডিয়েটলি (you should be leave emediatly.)

সালমান: ওকে।

রেহানা: জ্বি ভাইয়া ফি-আমানিল্লাহ দোয়া করবেন।

সালমান: ফি আমানিল্লাহ।

রেহানা: স্লালামালাইকুম।

সালমান: অলাইকুমস্লাম।

নিজের এই কথপোকথনটি বেশ মনোযোগ দিয়ে শুনতে দেখা যায় সালমান এফ রহমানকে। যদিও ঠিক আগেই কাঠগড়ায় বসে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান, সুলতান মাহমুদ, মামুনুর রশিদ ও মার্জিনা রায়হানসহ অন্যান্যরা।

অন্যদিকে, সাক্ষী আতিকুর রহমানের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। তবে তাকে জেরা করার জন্য সময়ের আবেদন জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। আবেদন মঞ্জুর করে ট্রাইব্যুনাল আগামী ৮ জুন পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন