

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক নীতির প্রেক্ষাপটে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি ব্যাপক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা দ্রুত এগোচ্ছে। উভয় পক্ষই এটিকে তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বড় অর্থনৈতিক সমঝোতা হিসেবে দেখছে।
ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আগামী সোমবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা নয়াদিল্লি সফর করবেন। আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির পাশাপাশি এই সফরে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েন এবং উচ্চ শুল্কের কারণে ভারত নতুন অর্থনৈতিক অংশীদার খুঁজছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নও চীনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে ভারতের বাজারকে বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছে।
আগামী ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় শীর্ষ বৈঠকে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় দুই দশক ধরে চলা আলোচনা একটি পরিণতিতে পৌঁছাবে।
এই চুক্তি কার্যকর হলে চার বছরের ব্যবধানে এটি হবে ভারতের নবম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। একই সঙ্গে ইইউ এর আগেই জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি সম্পন্ন করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমঝোতার কৌশলগত গুরুত্ব কেবল অর্থনীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়, এর ভূরাজনৈতিক প্রভাবও সুদূরপ্রসারী। এর মাধ্যমে ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক চাপ কিছুটা কমবে এবং ইউরোপ একটি স্থিতিশীল ও বড় বাজার পাবে। তবে মেধাস্বত্ব সুরক্ষা, কার্বন কর আর কৃষিপণ্যের মতো কয়েকটি ইস্যুতে এখনো মতভেদ রয়েছে। এসব বিষয় ধাপে ধাপে সমাধানের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
দীর্ঘমেয়াদে এই চুক্তি উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় নতুন ভারসাম্য সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
মন্তব্য করুন

