

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পোল্যান্ডের গডানস্ক শহরের গডানস্ক লিপসে স্টেশনের কাছে একটি রেলক্রসিংয়ে মালবাহী ট্রাকের সঙ্গে যাত্রীবাহী ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ট্রেনের চালক (লোকোমোটিভ মাস্টার) গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে আশ্চর্যজনকভাবে অক্ষত রয়েছেন ট্রাকচালক এবং ট্রেনের সব যাত্রী।
দুর্ঘটনার পর রেলক্রসিংয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে চালকদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সময় অনুযায়ী, গডানস্ক লিপসে স্টেশনের কাছের একটি লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে। একটি মালবাহী ট্রাক রেললাইন পার হওয়ার সময় হঠাৎ রেলক্রসিংয়ের ব্যারিকেড নেমে যায়। এতে ট্রাকটি লাইনের ওপর আটকা পড়ে।
ট্রাকটি সরিয়ে নেওয়ার আগেই দ্রুতগতিতে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন সেখানে পৌঁছে যায়। এরপর ট্রেনটি ট্রাকের ট্রেইলারে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ট্রাকের পেছনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ট্রেইলারটি ছিটকে পড়ে।
সংঘর্ষের ঠিক আগে ট্রেনচালক ইমার্জেন্সি ব্রেক প্রয়োগ করেন। তবে ট্রেনটি সময়মতো থামানো সম্ভব হয়নি। প্রচণ্ড সংঘর্ষ ও ঝাঁকুনিতে ট্রেনচালক গুরুতর আহত হন। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ট্রেনের পেছনের বগিগুলো লাইনে থাকায় যাত্রীরা বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পান। দুর্ঘটনায় ট্রেনের কোনো যাত্রীর গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
ট্রাকচালকও অক্ষত রয়েছেন। ট্রাকের কেবিন অংশটি রেললাইনের সংঘর্ষস্থলের বাইরে থাকায় তিনি বড় ধরনের আঘাত থেকে রক্ষা পান।
দুর্ঘটনার পর প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ব্যারিকেড নেমে যাওয়ার পর ট্রাকচালক ট্রাকটিকে রেললাইন থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তিনি গাড়িটি সামান্য সামনে-পেছনে করার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে ট্রেনটি খুব কাছাকাছি চলে আসে।
পরিস্থিতি এত দ্রুত বদলে যায় যে ট্রাকচালকের কেবিন থেকে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ারও সুযোগ হয়নি। এরপর ট্রেনটি ট্রাকের ট্রেইলারে সজোরে আঘাত করে।
দুর্ঘটনার পর পোল্যান্ডের রেল কর্তৃপক্ষ ও বিশেষজ্ঞরা রেলক্রসিংয়ে আটকে পড়া যানবাহনের চালকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা দিয়েছেন।
তাদের পরামর্শ, কোনো যানবাহন রেলক্রসিংয়ের ওপর আটকে গেলে এবং ব্যারিকেড নেমে গেলে দ্রুত গাড়িটি নিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে ব্যারিকেড ভেঙে বের হয়ে যাওয়াকেও জীবনের নিরাপত্তার জন্য গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
দুর্ঘটনার কারণ জানতে পুলিশ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। বিশেষ করে রেলক্রসিংয়ের ব্যারিকেড ও সিগন্যালিং ব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ করছিল কি না, এবং দুর্ঘটনার আগে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


