

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সিঙ্গাপুর সরকার প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীসহ অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের বার্ষিক বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওংয়ের বেতনও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
তিনি বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতনভোগী রাজনৈতিক নেতা। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওংয়ের বার্ষিক বেতন প্যাকেজ ১.৪ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার (প্রায় ১.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৮ লাখ ১৮ হাজার পাউন্ড) বাড়বে। ওং জানিয়েছেন, বেতন বৃদ্ধির ফলে তিনি যে অতিরিক্ত অর্থ পাবেন, তা আগামী পাঁচ বছর দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করবেন। ওং বলেন, দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের রাজনীতিতে আকৃষ্ট করতে মন্ত্রীদের বেতন বাড়ানো জরুরি।
সিঙ্গাপুর সরকার এর আগে যুক্তি দিয়েছে, মন্ত্রীদের তুলনামূলক বেশি বেতন দুর্নীতি কমাতেও ভূমিকা রাখে।
তবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সিঙ্গাপুরে সমালোচনা শুরু হয়েছে। দেশটিতে চাকরির নিরাপত্তা এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে মানুষের উদ্বেগের মধ্যেই মন্ত্রীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বেতন বাড়ার আগেও লরেন্স ওং বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতনভোগী রাজনৈতিক নেতা।
বর্তমানে তিনি বছরে ২.২ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার পান। নতুন কাঠামো কার্যকর হলে তার বার্ষিক বেতন ৬০ শতাংশের বেশি বেড়ে ৩.৬ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার (প্রায় ২.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) হবে। বেতন পাওয়ার দিক থেকে ওংয়ের পরেই রয়েছেন হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি। তিনি বছরে প্রায় সাত লাখ ১৯ হাজার মার্কিন ডলার পান। এরপর রয়েছেন সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন, যার বার্ষিক বেতন প্রায় ছয় লাখ ছয় হাজার ডলার।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বছরে ৪ লাখ মার্কিন ডলার বেতন পান। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের বার্ষিক বেতন প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ডলার।
মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং স্বীকার করেছেন, মন্ত্রীদের বেতন নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। কারণ তাদের বেতন দেশটির অধিকাংশ নাগরিকের আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। সিঙ্গাপুরে বর্তমানে মানুষের মধ্যম মাসিক আয় পাঁচ হাজার ৭৭৫ সিঙ্গাপুর ডলার। তবে ওং বলেন, ব্যবসায়ী নেতা ও শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের রাজনীতিতে যোগ দিতে আগ্রহী করানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে ভালো বেতনের পেশা ছেড়ে রাজনীতিতে আসার ক্ষেত্রে আর্থিক বিষয়টি একটি বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তিনি বলেন, ‘সরকার এসব ব্যক্তির আগের আয়ের সমান বেতন দিতে পারবে না। তবে তাদের বর্তমান পেশা ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পথে অপ্রয়োজনীয় আর্থিক বাধা তৈরি করতে চায় না সরকার।’ ওং আরো বলেন, এই বেতন কাঠামো তাকে এবং ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রীদের যোগ্য সিঙ্গাপুরবাসীদের রাজনীতিতে আসতে উৎসাহিত করতে এবং দেশের জন্য শক্তিশালী নেতৃত্বের দল গড়তে সহায়তা করবে।
বর্তমানে সিঙ্গাপুরের একজন মন্ত্রীর মূল বার্ষিক বেতন প্রায় ১.১ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার। নতুন কাঠামো অনুযায়ী তা বেড়ে প্রায় ১.২ মিলিয়ন ডলার হবে। তবে ওং আশা করছেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বেশিরভাগ মন্ত্রী প্রায় ১.৩৫ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার পর্যন্ত বার্ষিক বেতন পেতে পারেন। কর্মক্ষমতার ভিত্তিতে তাদের বেতনের একটি অংশ বাড়ানো হবে।
মন্ত্রীদের বেতনের একটি অংশ দেশের অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থানের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। বেকারত্বের হার মানুষের আয় বৃদ্ধি এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধির মতো নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে কি না, তার ভিত্তিতে এই অতিরিক্ত বেতন নির্ধারণ করা হবে।
সিঙ্গাপুরের মন্ত্রীদের উচ্চ বেতন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। দেশটির ক্ষমতাসীন দল পিপলস অ্যাকশন পার্টি (পিএপি) স্বাধীনতার পর থেকেই সরকার পরিচালনা করছে। দলটির বিরুদ্ধে সমালোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হলো মন্ত্রীদের তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত উচ্চ বেতন।


