মঙ্গলবার
২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ল

প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬, ০৭:৫২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা এগোচ্ছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ও হস্তান্তরের বিষয়টি কাঠামোগত আলোচনা শুরু হওয়ার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা কমাতে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা এগোচ্ছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ও হস্তান্তরের বিষয়টি কাঠামোগত আলোচনা শুরু হওয়ার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।

শনিবার (২৩ মে) অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের ফোনালাপে তারা ট্রাম্পকে আলোচনার পথ খোলা রাখার আহ্বান জানান।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, তেহরানে চলমান মধ্যস্থতামূলক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সম্ভাব্য অন্তর্বর্তী সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই আলোচনায় যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালিতে চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে।

হোয়াইট হাউস সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আলোচনাকে ‘ইতিবাচক’ বলে উল্লেখ করেছে। এক আঞ্চলিক কূটনীতিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সাম্প্রতিক যোগাযোগে উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে কিছু অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

এর আগে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত। তিনি জানান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। একই সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি না হলে কঠোর পদক্ষেপেরও ইঙ্গিত দেন তিনি।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, পর্দার আড়ালে নিবিড় কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। তাঁর ভাষ্য, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে।

এদিকে সম্ভাব্য এই সমঝোতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। দেশটির আশঙ্কা, অন্তর্বর্তী চুক্তিতে যদি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে।

এ কারণে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রিপাবলিকান দলের কয়েকজন সিনেটর ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেছেন, দুর্বল কোনো চুক্তি আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, চলমান আলোচনার মূল লক্ষ্য যুদ্ধ বন্ধ করা এবং অর্থনৈতিক চাপ কমানো। তবে দেশটি স্পষ্ট করেছে, জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে তারা কোনো আপস করবে না।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন