

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কে বসতে যাচ্ছেন বঙ্গভবনের সর্বোচ্চ আসনে?
সংবিধান অনুযায়ী, আগামী ২৪ অক্টোবরের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামও।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ড. ইউনূসের নাম আলোচনায় আসার পেছনে বড় কারণ তার আন্তর্জাতিক পরিচিতি, নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা। ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া এই অর্থনীতিবিদ ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিশ্লেষকদের ধারণা, সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির ভূমিকা মূলত সাংবিধানিক হলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপ্রধানের ব্যক্তিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সে কারণে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত কোনো ব্যক্তিকে এই পদে বসানো হলে সরকারের কূটনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে পারে।
তবে ড. ইউনূসের নাম সামনে আসায় বিএনপির ভেতরে তৈরি হয়েছে ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক সমীকরণ। একদিকে রয়েছে আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও নিরপেক্ষ ভাবমূর্তির বিষয়, অন্যদিকে রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রামে দলের প্রতি অনুগত ও পরীক্ষিত নেতাকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে বসানোর দাবি।
রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির ভেতর থেকেও কয়েকজন অভিজ্ঞ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাঁদের মধ্যে আছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
এদিকে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদকেই স্থায়ীভাবে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। তবে অতীতের কিছু রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ঘিরে দলটির ভেতরে এ নিয়ে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে বলেও জানা গেছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকেই আসবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
অন্যদিকে বিএনপি প্রধানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল মনে করেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এই পদে এমন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত, যিনি রাজনৈতিকভাবে পরীক্ষিত এবং দলের আদর্শের প্রতি আস্থাশীল।
তবে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, দলের গঠনতন্ত্র ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হবে।
এখন নজর থাকবে বিএনপির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। রাষ্ট্রপতির পদে দলটি শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ কোনো নেতাকে বেছে নেয়, নাকি আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে ড. ইউনূসের মতো ব্যক্তিত্বের দিকে ঝুঁকে—সেটিই হবে আগামী দিনের বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন।