

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মিনেসোটায় ট্রাম্প প্রশাসনের পাঠানো অভিবাসন-সংক্রান্ত বাড়তি ফেডারেল বাহিনী প্রত্যাহারের দাবিতে করা আবেদন শনিবার খারিজ করেছেন একজন ফেডারেল বিচারক।
৩০ পৃষ্ঠার রায়ে যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক ক্যাথরিন মেনেন্ডেজ বলেন, মিনেসোটার অ্যাটর্নি জেনারেল কিথ এলিসন (ডেমোক্র্যাট) যে দাবি করেছেন এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের দশম সংশোধনী লঙ্ঘন করছে সে দাবিতে রাজ্যের জয়ের সম্ভাবনা কম। দশম সংশোধনী অঙ্গরাজ্যের অধিকারকে ফেডারেল হস্তক্ষেপ থেকে সুরক্ষা দেয়।
রায়ে বিচারক লেখেন, বাদীরা আদালতকে বিদ্যমান আইনি নজিরকে এমন এক নতুন প্রেক্ষাপটে প্রয়োগ করতে বলছেন, যেখানে এর প্রয়োগ অনেক কম প্রত্যক্ষ অর্থাৎ অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের লক্ষ্যে সশস্ত্র ফেডারেল কর্মকর্তাদের এক অভূতপূর্ব মোতায়েন।
তিনি আরও যোগ করেন, যেসব মামলার নজিরের ওপর তারা নির্ভর করেছেন, সেগুলোর কোনোটিই এর কাছাকাছিও নয়।
বিচারক মেনেন্ডেজ সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগপ্রাপ্ত।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আগ্রাসী অভিবাসন দমন অভিযানের সর্বশেষ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে মিনেসোটা। দেশজুড়ে বিভিন্ন ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত শহরে চালানো অভিযানের অংশ হিসেবেই এখানে এই তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
ডিসেম্বরে প্রথম ঘোষণা করা এই অভিযানে সরকার জানিয়েছে, 'অপারেশন মেট্রো সার্জ’–এর আওতায় প্রায় ৩,০০০ জন আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) ও সিবিপি (কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে গত সপ্তাহান্তে ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স হাসপাতালের আইসিইউ নার্স আলেক্স প্রেটি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার পর এই অভিযান নতুন মোড় নেয়। চলতি মাসে মিনেসোটায় ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে নিহত মার্কিন নাগরিকের সংখ্যা এটি নিয়ে দাঁড়াল দুই।
প্রেটির মৃত্যুর আগেই মিনিয়াপোলিস ও সেন্ট পল শহরের সঙ্গে যৌথভাবে মামলাটি দায়ের করেছিলেন এলিসন। সোমবার এক শুনানিতে বিচারক মেনেন্ডেজ বিষয়টি বিবেচনায় নেন।
বাদীপক্ষের দাবি ছিল, এই অভিযান দশম সংশোধনীর ‘অ্যান্টি-কমান্ডিয়ারিং’ নীতির লঙ্ঘন, যার মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট ফেডারেল সরকারকে অঙ্গরাজ্যকে ফেডারেল নিয়ন্ত্রক কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাধ্য করা থেকে বিরত রেখেছে।
মিনেসোটার যুক্তি ছিল, ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ রাজ্যকে অতিরিক্ত পুলিশি সম্পদ সরিয়ে নিতে বাধ্য করছে এবং তাদের ‘স্যান্কচুয়ারি সিটি’ নীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
বিচারক মেনেন্ডেজ বলেন, মামলাটি পুরোপুরি ভিত্তিহীন নয় এমনকি এক পর্যায়ে তিনি ইঙ্গিত দেন যে অভিবাসন এজেন্টরা বর্ণভিত্তিক প্রোফাইলিং ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগে জড়িত থাকতে পারেন। তবে তাঁর মতে, পুরো অভিযান বন্ধ করে দেওয়ার মতো প্রাথমিক আদেশ জারির জন্য মামলাটি এখনো যথেষ্ট স্পষ্ট নয়।
অভিবাসন অভিযানের সাংবিধানিকতা ছাড়াও, উভয় পক্ষের সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিতে আদালত বাধ্য বলে জানান বিচারক। তিনি লেখেন, এই পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করলে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের ক্ষতি হতো।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, চলতি সপ্তাহের শুরুতে আপিল আদালত তাঁর দেওয়া আরেকটি আদেশ স্থগিত করেছে, যেখানে প্রতিবাদ দমনে আইসিইর কৌশল সীমিত করা হয়েছিল।
তিনি লেখেন 'যদি সেই নিষেধাজ্ঞাই অতিরিক্ত হয়ে থাকে, তাহলে এখানে পুরো অভিযান বন্ধ করে দেওয়া আদেশ তো নিঃসন্দেহে আরও বেশি হয়ে যেত। এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন,মিনেসোটায় বিচার বিভাগের আরেকটি বিশাল আইনি জয়। বাইডেন-নিয়োগপ্রাপ্ত এক জেলা বিচারক মিনেসোটার অ্যাটর্নি জেনারেল কিথ এলিসনের আইসিইকে রাজ্য থেকে দূরে রাখার চেষ্টা নাকচ করে দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, 'স্যান্কচুয়ারি নীতি বা ভিত্তিহীন মামলা কিছুই ট্রাম্প প্রশাসনকে মিনেসোটায় ফেডারেল আইন প্রয়োগ থেকে থামাতে পারবে না।'
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম এই রায়কে 'জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার পক্ষে একটি বিজয়' বলে অভিহিত করেন। অন্যদিকে মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে রায়ে হতাশা প্রকাশ করে জানান, লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে।
এক বিবৃতিতে তিনি লেখেন,আজকের সিদ্ধান্ত এখানকার মানুষের অভিজ্ঞতা বদলায় না-ভয়, অস্থিরতা ও ক্ষতি, যা এমন এক ফেডারেল অভিযানের ফলে হয়েছে, যার মিনিয়াপোলিসে থাকার কথা ছিল না। এই অভিযান জননিরাপত্তা আনেনি; বরং তার উল্টোটা করেছে। এটি একটি আগ্রাসন, এবং এটি বন্ধ হওয়া দরকার।'
তিনি আরও বলেন, আজকের রায় এই মামলার মাত্র একটি ধাপ। ট্রাম্প প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে শহর কর্তৃপক্ষ আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে। --
মন্তব্য করুন
