শুক্রবার
০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় নেতানিয়াহু

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:১৯ পিএম
নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প
expand
নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে—এমন সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গত মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় এই বিষয়ে দুই নেতার মধ্যে কথা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলের উদ্বেগ তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। এর ফলে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

বার্তাসংস্থা আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নকে ইসরায়েলের জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি লেবাননে হিজবুল্লাহর দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় বলে অ্যাক্সিওস জানায়। এক মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য, ২০২৬ সালে ইরানে সম্ভাব্য নতুন হামলার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

এর আগে সদ্যসমাপ্ত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ১২ দিনের সংঘাত হয়। ওই সময় ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। সেই অভিযানকে ‘অত্যন্ত সফল’ বলে উল্লেখ করে ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, ইরান যদি আবার পারমাণবিক কর্মসূচি জোরদার করতে চায়, যুক্তরাষ্ট্র তা প্রতিহত করবে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ইরান যদি পারমাণবিক কার্যক্রম পুনরায় সক্রিয় করার বিষয়ে বাস্তব ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ নেয় বলে মনে হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারেন ট্রাম্প। তবে ‘পুনর্গঠন’ বলতে কী বোঝানো হবে—সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ঐকমত্য হয়নি।

সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল আবারও অভিযোগ তুলেছে যে, ইরান ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নে অগ্রগতি করছে এবং লেবাননে হিজবুল্লাহ নতুন করে অস্ত্র মজুত করছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেছেন, যেকোনো আগ্রাসনের জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সম্মানজনক পরিবেশে’ আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।

মার্কিন ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ সামরিক পদক্ষেপ কখন বা কোন পরিস্থিতিতে নেওয়া হবে—এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ প্রসঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসও ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্যের দিকেই নজর রাখতে বলেছে।

উল্লেখ্য, গত জুনে সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের ফোর্দো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় শক্তিশালী বোমা ব্যবহার করে হামলা চালায়। তারও আগে ইসরায়েল ইরানে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের লক্ষ্যবস্তু করে।

এদিকে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে অগ্রসর হওয়ার বিষয়েও ট্রাম্প সম্মতি দিয়েছেন। হামাস নিরস্ত্রীকরণে ব্যর্থ হলে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। গাজা বোর্ড অব পিস আগামী ২৩ জানুয়ারি দাভোসে বৈঠকে বসতে পারে বলে জানা গেছে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে সংঘাত শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি অভিযানে বিপুল প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজা পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X