

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চৈত্রের শুরুতেই স্বাভাবিক গরমের বদলে মেঘলা আকাশ, বৃষ্টি আর ঝোড়ো হাওয়ায় দেশের আবহাওয়া হয়ে উঠেছে শীতল। কাঠফাটা রোদের দেখা নেই; বরং বৃষ্টিভেজা পরিবেশেই পালিত হয় পবিত্র ঈদুল ফিতর। তবে কিছু এলাকায় বজ্রপাত, বজ্রঝড় ও কালবৈশাখী হয়েছে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টি।
আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ও পার্শ্ববর্তী ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় একটি শক্তিশালী ‘বৃষ্টি বলয়’ সক্রিয় রয়েছে। এই বলয়টি আফগানিস্তান থেকে শুরু হয়ে উত্তর পাকিস্তান পেরিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত, যার দৈর্ঘ্য প্রায় এক হাজার কিলোমিটার।
এই সক্রিয় বলয়ের প্রভাবে শনিবার (২১ মার্চ) সন্ধ্যা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের প্রায় সব বিভাগেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। কোথাও কোথাও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির পাশাপাশি দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টিও হয়েছে। এ সময়ে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায়—৪১ মিলিমিটার।
রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামেও সামান্য বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া দিনাজপুরে ৩২, রাজারহাটে ২৬, সৈয়দপুরে ১৯, রংপুরে ১৭, খুলনায় ১২, পটুয়াখালীতে ১১, রাজশাহী ও চাঁদপুরে ৮ এবং নোয়াখালীতে ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
মৌসুমের এই অস্বাভাবিক বৃষ্টি কৃষির জন্য কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে সেচের প্রয়োজন কমবে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও কিছুটা বাড়তে পারে।
গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে দেশের তাপমাত্রাও কমেছে। রাজধানীতে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাতের সর্বনিম্ন ১৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানা জানান, রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। বিচ্ছিন্নভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। এ সময় দিনে তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বর্তমানে লঘুচাপের একটি বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। পাশাপাশি মৌসুমী স্বাভাবিক লঘুচাপ রয়েছে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে।
অন্যদিকে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, আগামী ২৭ মার্চ পর্যন্ত আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং উপ-হিমালয় অঞ্চলসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এসব এলাকায় বজ্রপাত, ঝড়ো হাওয়া এবং শিলাবৃষ্টিও হতে পারে।
এদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
