

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


লা লিগার নতুন মৌসুমে হ্যাট্রিক জয়ের পর এবার প্রথম হারের স্বাদ পেল রিয়াল মাদ্রিদ। কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসে শেষ পর্যন্ত রিয়াল বেতিসের কাছে ১-০ গোলের হার দেখতে হয়েছে হোসে মরিনহোর শিষ্যদের।
শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) ঘরের মাঠে বেতিসের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন আইরিশ স্ট্রাইকার ট্রয় প্যারোট। অন্যদিকে শেষ সময়ে পেনাল্টি পেয়েও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন কিলিয়ান এমবাপ্পে।
ম্যাচের বেশির ভাগ সময় রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত ছিল বেতিস। অন্যদিকে আক্রমণের পর আক্রমণ সাজিয়েও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি রিয়াল। শেষ পর্যন্ত গোলের সুযোগ তৈরির সংখ্যায় এগিয়ে থেকেও খালি হাতে মাঠ ছাড়তে হয় জোসে মরিনিয়োর দলকে।
ম্যাচের ১১ মিনিটে প্রথম বড় সুযোগ পায় রিয়াল। ডান দিক থেকে আর্দা গিলের গোলমুখে বল বাড়ালে ডিন হাউসেন পা ছুঁইয়ে শট নেন। তবে ঝাঁপিয়ে পড়ে সেটি ঠেকিয়ে দেন বেতিসের গোলরক্ষক।
এর মাত্র তিন মিনিট পর আবার সুযোগ তৈরি হয়। এমবাপের কাছ থেকে বল পেয়ে গিলের গোলরক্ষককে কাটিয়ে দূরের পোস্টের দিকে বল বাড়ান। তবে ভিনিসিউস জুনিয়রের নেওয়া শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
তবে তাতে রিয়ালের আক্রমণ থেমে থাকেনি। তবে শেষ মুহূর্তে গিয়ে বারবার ভুল হচ্ছিল। ৪৩ মিনিটে অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি সুযোগ নষ্ট করেন এমবাপে।
মাঝমাঠ থেকে আসা থ্রু বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন ভিনিসিউস। তাকে আটকাতে গোলরক্ষক এগিয়ে এলে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ডান পাশে থাকা এমবাপের দিকে বল বাড়ান। ফাঁকায় বল পেয়েও প্রথম শটে গোল করতে পারেননি এমবাপে। ফিরতি বলও তার কাছে এলে দ্বিতীয় প্রচেষ্টা এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফিরে যায়।
বিরতির আগে আরও দুবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় রিয়াল। কর্নার থেকে জুড বেলিংহ্যামের হেড ঠেকিয়ে দেন বেতিসের গোলরক্ষক। পরের কর্নারে ডিন হাউসেনের হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই ছিল রিয়ালের হাতে। বেতিস নিজেদের রক্ষণভাগ শক্ত রেখে সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। ৬৭ মিনিটে আবারও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন এমবাপে।
হাউসেনের থ্রু পাস ডি-বক্সে ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি তিনি। পরে কোনোরকমে শট নিলেও সেটি ছিল দুর্বল, যা সহজেই সামলে নেন গোলরক্ষক।
রিয়ালের আক্রমণের বিপরীতে বেতিস তখন পর্যন্ত প্রায় পুরোপুরি রক্ষণনির্ভর ফুটবল খেলছিল। ৮০ মিনিট পর্যন্ত তাদের কোনো শটই রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকে বড় পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি।
কিন্তু ঠিক পরের মিনিটেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৮১ মিনিটে কর্নার থেকে নেলসন দেয়োসা হেড নেন। ঝাঁপিয়ে এক হাতে বলটি ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া। তবে বিপদ পুরোপুরি কাটাতে পারেননি তিনি। ফিরতি বল বক্সের ভেতর ফাঁকা জায়গায় পেয়ে যান ট্রয় প্যারোট। সেখান থেকে জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে বেতিসকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
গোল হজমের পর দ্রুত সমতায় ফেরার চেষ্টা করে রিয়াল। চার মিনিট পর এমবাপে চিপ করে গোলরক্ষককে পরাস্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
এরপর বদলি হিসেবে নামা কার্লোস এস্পি অ্যাক্রোবেটিক ভলিতে বল জালে পাঠিয়ে সমতা ফেরানোর সম্ভাবনা তৈরি করেন। তবে ভিএআরের পর অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর যোগ করা সময়ে রিয়ালের সামনে আসে শেষ সুযোগ। ডি-বক্সে ভিনিসিউস ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।
রিয়ালের হয়ে স্পট কিক নিতে এগিয়ে যান এমবাপে। ম্যাচে এর আগেও একাধিক সুযোগ নষ্ট করা ফরাসি তারকার কাছেই তখন ছিল দলকে হার থেকে বাঁচানোর সুযোগ। কিন্তু তাঁর নেওয়া পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন বেতিসের গোলরক্ষক আলভারো।
এর সঙ্গে শেষ হয়ে যায় রিয়ালের ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ সম্ভাবনাও। ম্যাচের বাকি সময়ে আর গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বেতিস।
এই জয়ে চার ম্যাচে ৯ পয়েন্ট হলো বেতিসের। সমান পয়েন্ট নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। আর তিন ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে আছে বার্সেলোনা।


