

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফুটবল বিশ্বে লিওনেল মেসি মানেই আর্জেন্টিনার গর্ব। তবে তার পারিবারিক ইতিহাস ঘেঁটে এবার সামনে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য। ইতালীয় ইতিহাসবিদ ও ব্যাংকার ফিওরেঞ্জো সান্তিনির গবেষণায় জানা গেছে, মেসির মাতৃসূত্রের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে একসময় ব্রাজিলেরও গভীর সম্পর্ক ছিল। এই তথ্য প্রকাশের পর ব্রাজিলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও রসিকতা।
বিশ্বকাপের সময় স্প্যানিশ গণমাধ্যমে আলোচনা উঠেছিল, বার্সেলোনায় বেড়ে ওঠা মেসিকে একসময় স্পেন নিজেদের দলে পাওয়ার সুযোগ হারিয়েছিল। একই আক্ষেপ করতে পারে ইতালিও। তবে নতুন গবেষণা বলছে, ব্রাজিলও চাইলে সেই তালিকায় নিজেদের নাম যোগ করতে পারে।
সান্তিনির গবেষণা অনুযায়ী, মেসির পিতৃসূত্রের প্রপিতামহ অ্যাঞ্জেলো মেসি ইতালির মারকে অঞ্চলের মাচেরাতা প্রদেশের রেকানাতি শহরের বাসিন্দা ছিলেন। ১৮৯৩ সালে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে ইতালি ছেড়ে আর্জেন্টিনার রোজারিওতে বসতি স্থাপন করেন।
পরবর্তীতে সান্তিনি মেসির মায়ের পারিবারিক ইতিহাস অনুসন্ধান শুরু করেন। তিনি জানান, মেসির বাবা ২০১৫ সালে তাকে মায়ের বংশপরিচয়ও অনুসন্ধান করতে অনুরোধ করেছিলেন, যাতে ইতালীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা যায়।
গবেষণায় উঠে আসে, মেসির মাতৃসূত্রের পূর্বপুরুষ রানিয়েরো কোচেত্তিনি ইতালির সান সেভেরিনো মার্কে শহরের বাসিন্দা ছিলেন। স্ত্রী রোজা রিক্কেজ্জাকে নিয়ে তিনি প্রথমে ইতালিতে দুটি সন্তানের জন্ম দেন। এরপর ১৮৯৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর 'ওয়াশিংটন' নামের জাহাজে করে তারা ব্রাজিলের সান্তোস বন্দরে পৌঁছান। সাও পাওলো রাজ্যের ইমিগ্রেশন মিউজিয়ামের সংরক্ষিত নথিতে এ তথ্যের প্রমাণ রয়েছে।
ব্রাজিলে পৌঁছানোর পর সরকারি নথিতে রানিয়েরোর নাম পরিবর্তিত হয়ে হয় 'রামিয়েরো কনচেত্তিনি'। সে সময় অভিবাসীদের নাম ও পদবির বানান পরিবর্তন ছিল সাধারণ ঘটনা। তিনি সাও পাওলোর রিনকাও এলাকায় একটি কৃষিখামারে কাজ শুরু করেন।
ব্রাজিলে থাকাকালীন তাদের আরও দুই সন্তানের জন্ম হয়। এর মধ্যে ১৯০৪ সালে জন্ম নেওয়া আরদেরিগোর নাম পরবর্তীতে পরিবর্তিত হয়ে হয় 'ফেদেরিকো'। একই সঙ্গে পারিবারিক পদবি 'কোচেত্তিনি' বদলে সরকারি নথিতে লেখা হয় 'কুচ্চিত্তিনি'। গবেষক সান্তিনির ভাষ্য, এই ফেদেরিকোই ছিলেন লিওনেল মেসির প্রপিতামহ এবং এখান থেকেই 'কুচ্চিত্তিনি' পদবির সূচনা।
১৯০৫ সালে ফেদেরিকোর জন্মের এক বছরের মধ্যেই পুরো পরিবার ব্রাজিল ছেড়ে আর্জেন্টিনার রোজারিওতে চলে যায়। সেখানেই পরবর্তীতে জন্ম নেন মেসির নানা আন্তোনিও কুচ্চিত্তিনি, মা সেলিয়া মারিয়া কুচ্চিত্তিনি এবং ১৯৮৭ সালের ২৪ জুন জন্ম হয় লিওনেল আন্দ্রেস মেসি কুচ্চিত্তিনির।
সান্তিনি জানান, 'কুচ্চিত্তিনি' পদবির উৎস খুঁজতেই তিনি প্রথম ব্রাজিলের সঙ্গে মেসির পরিবারের এই সংযোগের সন্ধান পান। কারণ ইতালিতে এই পদবির কোনো অস্তিত্ব তিনি খুঁজে পাননি। ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ গবেষণার মাধ্যমে তিনি মেসির মাতৃসূত্রের পুরো বংশতালিকা পুনর্গঠন করেন।
তার ভাষায়, "গবেষণার সময় দেখলাম ইতালিতে কুচ্চিত্তিনি নামে কোনো পদবি নেই। পরে মেসির মায়ের এক চাচাতো ভাইয়ের কাছ থেকে নথি পাওয়ার পর নিশ্চিত হই, ব্রাজিলে আসার পরই পরিবারের নাম ও পদবিতে পরিবর্তন আনা হয়েছিল।"
এই গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২২ সালে ইতালির সান সেভেরিনো মার্কে শহর মেসিকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করে।
এদিকে গবেষণাটি প্রকাশের পর ব্রাজিলজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া। অনেকেই মেসিকে ব্রাজিলের জার্সি পরিয়ে সম্পাদিত ছবি প্রকাশ করেন। আবার কেউ কেউ রসিকতা করে মন্তব্য করেন, যদি ইতিহাস ভিন্ন হতো এবং মেসি ব্রাজিলের হয়ে খেলতেন, তাহলে হয়তো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দীর্ঘদিন বিশ্বকাপ ফাইনালে না ওঠার আক্ষেপ এতটা বড় হয়ে থাকত না।