

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফুটবল ইতিহাসে কিছু ম্যাচ আছে, যেগুলো কেবল একটি ফলাফল নয়; হয়ে ওঠে একটি যুগের প্রতীক। ১৯৮৬ সালের ২২ জুন তেমনই এক দিন। ঠিক ৪০ বছর আগে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচে যা ঘটেছিল, তা আজও ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত, বিতর্কিত এবং নান্দনিক মুহূর্তগুলোর অন্যতম।
মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করেছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। একটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল, অন্যটি বিস্ময়ে স্তব্ধ করেছিল পুরো বিশ্বকে।
‘হ্যান্ড অব গড’: যে গোল আজও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু
প্রথমার্ধে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধের ৫১তম মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ইংল্যান্ডের ডি-বক্সে উঁচু হয়ে আসা বলের দিকে এগিয়ে যান ম্যারাডোনা। গোলরক্ষক পিটার শিল্টন বলটি মুষ্টিবদ্ধ হাতে ক্লিয়ার করতে উঠলেও তার আগেই ম্যারাডোনা বাম হাত দিয়ে বল স্পর্শ করে জালে পাঠিয়ে দেন।
রেফারি আলি বিন নাসের ঘটনাটি দেখতে না পাওয়ায় গোলের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা প্রতিবাদ করলেও লাভ হয়নি।
ম্যাচ শেষে ম্যারাডোনা মজা করে বলেছিলেন, গোলটি হয়েছিল ‘কিছুটা আমার মাথা, আর কিছুটা ঈশ্বরের হাত দিয়ে।’ সেই মন্তব্যই পরে জন্ম দেয় ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত নামগুলোর একটি—‘হ্যান্ড অব গড’।
বিতর্কিত গোলের উত্তাপ তখনও কমেনি। ঠিক চার মিনিট পর ম্যারাডোনা এমন কিছু করলেন, যা ফুটবলকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যায়।
নিজেদের অর্ধ থেকে বল পেয়ে তিনি শুরু করেন এক অবিশ্বাস্য দৌড়। প্রায় ৬০ গজ পথ পাড়ি দিয়ে একের পর এক ইংলিশ খেলোয়াড়কে কাটিয়ে এগিয়ে যান। ড্রিবলিংয়ের সেই যাত্রায় তিনি পেছনে ফেলেন একাধিক রক্ষণভাগের খেলোয়াড়কে। শেষে গোলরক্ষক শিল্টনকেও পরাস্ত করে বল জালে জড়ান।
মাত্র কয়েক সেকেন্ডের সেই মুহূর্তকে আজও অনেকেই ফুটবল ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিগত গোল বলে মনে করেন। পরে সমর্থকদের ভোটে ফিফা গোলটিকে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ বা শতাব্দীর সেরা গোল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
সেদিন আর্জেন্টিনা ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতেছিল। সেমিফাইনাল পেরিয়ে ফাইনালেও জয় তুলে নেয় তারা। বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে ওঠে ম্যারাডোনার, আর তিনি প্রতিষ্ঠা পান ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরাদের একজন হিসেবে।
