

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল উত্তর আমেরিকার তিন দেশ- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় শুরু হবে ফুটবল বিশ্বকাপ। এবারের বিশ্বকাপে খেলবে ৪৮ দল।
স্পেন এই বিশ্বকাপের হট ফেভারিট। ২০২৪ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন বনে যাওয়া এই দল এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যে এসেছে বিশ্বকাপে।
কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে দলটি অনেক গতিশীল ও আক্রমণাত্মক। তারা পুরনো তিকি-তাকা ছেড়ে এখন আরও গতিময় ফুটবল খেলে।
গেল কাতার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মরক্কোর জমাট রক্ষণভাগের সামনে স্পেনের ‘তিকি-তাকা’ ফুটবল মুখ থুবড়ে পড়লে অনেকেই ভেবেছিলেন স্প্যানিশ ফুটবলের সোনালি দিন হয়তো শেষ। তবে স্পেনের জন্য অপেক্ষা করছিল একদম ভিন্ন এক বাস্তবতা। ২০২৬ বিশ্বকাপে এক আধুনিক ও গতিময় ফুটবলের নতুন মশাল হাতে নিয়ে যাচ্ছে তারা।
বর্তমান কোচ দে লা ফুয়েন্তে স্প্যানিশ ফুটবলের চিরাচরিত দর্শনে এনেছেন পরিবর্তন। পজেশনভিত্তিক ফুটবলের সৌন্দর্য বজায় রেখেই তিনি দলে যোগ করেছেন এক অন্য মাত্রার ক্ষিপ্রতা। মাঝমাঠে দীর্ঘক্ষণ বল ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করার চেয়ে তার দল এখন উইং ব্যবহার করে দ্রুত আক্রমণে উঠতে ভালোবাসে।
সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে কাউন্টার-প্রেসিং। যা প্রতিপক্ষকে সামলে ওঠার কোনো ফুরসতই দেয় না। উয়েফা বাছাইপর্বে ৬ ম্যাচের ৫টিতে জয় এবং মাত্র ২ গোল হজম করে ২১ গোল দেওয়ার পরিসংখ্যানই বলে দেয়, এই নতুন স্পেন কতটা ধারালো এবং নিখুঁত।
বার্সেলোনার বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামাল মাত্র ১৬ বছর বয়সে জাতীয় দলে অভিষিক্ত হয়ে আজ বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত হয়েছেন। ইয়ামালের পাশাপাশি বাঁ প্রান্তে নিকো উইলিয়ামসের গতি, মাঝমাঠে পেদ্রি এবং রক্ষণভাগে পাউ কুবারসির মতো তরুণদের পরিপক্বতা স্পেনকে অপ্রতিরোধ্য রূপ দিয়েছে।
বাছাইপর্বে স্পেনের রিজার্ভ বেঞ্চের গভীরতা ছিল দেখার মতো, যা একটি সম্ভাব্য বিশ্বজয়ী দলের অন্যতম প্রধান লক্ষণ।
২০১০ সালে জাভি-ইনিয়েস্তাদের সেই সোনালি প্রজন্ম দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে স্পেনকে প্রথম ও একমাত্র বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিল। এরপর ২০১৪ সালের গ্রুপপর্বের বিপর্যয় কিংবা ২০১৮ ও ২০২২-এর শেষ ষোলোর ট্র্যাজেডি—স্পেনভক্তদের বারবার হতাশ করেছে।
তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। গ্রুপপর্বে কেপভার্দে, সৌদি আরব এবং লাতিন আমেরিকান পরাশক্তি উরুগুয়ের মতো দলগুলোর মুখোমুখি হতে হবে স্প্যানিশদের। অতীতের আক্ষেপ ভুলে, তারুণ্যের অফুরন্ত শক্তি আর দে লা ফুয়েন্তের নিখুঁত মগজাস্ত্রে ভর করে স্পেন এবার তাদের জার্সিতে দ্বিতীয় তারকা যোগ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। লা রোহাদের এই নতুন রূপ কতটা সফল হয়, ফুটবল বিশ্ব এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায়।
