

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন। দুই দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, শক্তির ভারসাম্য এবং আক্রমণাত্মক ফুটবলের প্রতিশ্রুতির কারণে ম্যাচটিকে অনেকেই এবারের টুর্নামেন্টের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই হিসেবে দেখছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাত ১টায় টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে শুরু হবে ম্যাচটি। জয়ী দল জায়গা করে নেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে।
ফ্রান্স ও স্পেনের ফুটবল দর্শনে রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে অভ্যস্ত ফরাসিরা, অন্যদিকে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ধৈর্যশীল আক্রমণ গড়ে তোলাই স্পেনের পরিচিত কৌশল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ফ্রান্স দুবার (১৯৯৮ ও ২০১৮) শিরোপা জিতেছে, আর স্পেনের একমাত্র বিশ্বজয় ২০১০ সালে।
এই ম্যাচে জিততে পারলে পশ্চিম জার্মানির পর দ্বিতীয় ইউরোপীয় দল হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার কীর্তি গড়বে ফ্রান্স। অন্যদিকে, ইউরো ২০২৪ ও ২০২৫ উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারানোর স্মৃতি স্পেনকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে।
পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অপ্টার সুপারকম্পিউটারও ফ্রান্সকে সামান্য এগিয়ে রেখেছে। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা ৪২ দশমিক ১ শতাংশ, স্পেনের ৩১ দশমিক ৮ শতাংশ। আর ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ২৬ দশমিক ১ শতাংশ।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসে অবশ্য এগিয়ে স্পেন। এখন পর্যন্ত ৩৮ ম্যাচে স্প্যানিশরা জিতেছে ১৮টিতে, ফ্রান্সের জয় ১৩টিতে। বাকি সাতটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
সাম্প্রতিক বড় টুর্নামেন্টে স্পেনের ধারাবাহিকতাও চোখে পড়ার মতো। ২০১৮ বিশ্বকাপের পর থেকে বড় প্রতিযোগিতায় ২৭ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে হেরেছে তারা। ২০২২ বিশ্বকাপে জাপানের কাছে হারের পর টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে দলটি। এই সময়ে তারা মাত্র পাঁচটি গোল হজম করেছে এবং নয়টি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে কোনো গোলই করতে দেয়নি।
তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস কিছুটা ফ্রান্সের পক্ষেই কথা বলে। এই প্রতিযোগিতায় এর আগে মাত্র একবার দেখা হয়েছিল দুই দলের। ২০০৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে পিছিয়ে পড়েও শেষ দিকে দুটি গোল করে ৩–১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল ফরাসিরা। প্রায় দুই দশক পর আবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের এই দুই ফুটবল শক্তি।
