

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত না করার কারণ নিয়ে জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার ‘পরীক্ষা স্থগিত হয়নি কেন’? এমন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং মাঠপর্যায়ের প্রশাসনের মতামতের ভিত্তিতেই পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষা মনিটরিংয়ের সময় আমরা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি), আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, প্রতিটি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছিলেন, বৃষ্টির আশঙ্কা নেই। বিকেল ৫টা পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সবার মতামতের ভিত্তিতে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’
তিনি বলেন, সারা দেশে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে এবং ৬৪ জেলার সব কেন্দ্রে একই সময়ে পরীক্ষা শুরু হয়। তবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পর্যায়ক্রমে প্রথমে রাঙামাটি, পরে বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং শেষে পুরো চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
কুমিল্লার একটি পরীক্ষা কেন্দ্রের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সকালে দেখি কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে মেয়র, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসককে কেন্দ্রটি স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে কলেজের পাঁচতলা ভবনে নিয়ে সেখানে পরীক্ষা নেওয়া হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সারা দেশের জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছি। তারা জানিয়েছেন, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ছাড়া অন্য কোথাও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা ব্যাহত হয়নি।’
পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নে ভুল থাকার বিষয়েও বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রশ্নপত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল ছিল। আমি দায়িত্ব নিয়েছি মাত্র চার মাস আগে। ওই প্রশ্নপত্রের মডারেটর আগের। প্রশ্নপত্র প্রস্তুত ও মডারেশনের কাজ অন্তত দুই বছর আগে থেকে শুরু হয়।’
তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে এবং পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করেছে।
অন্যদিকে মঙ্গলবার বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতসহ তিন দফা দাবিতে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও করেছে শিক্ষার্থীদের একাংশ। এর আগে তারা রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন।
কর্মসূচি শেষে তারা মিছিল নিয়ে নীলক্ষেত মোড় অতিক্রম করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন।
