

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আর্লিং হালান্ড- যাকে ফুটবল দুনিয়া চেনে ‘নরওয়েজিয়ান ভাইকিং’ নামে। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে একের পর এক রেকর্ড ভাঙা এই দুর্ধর্ষ স্ট্রাইকার চাইলেই কিন্তু আজ ইংল্যান্ডের সাদা জার্সি গায়ে জড়িয়ে বিশ্বকাপ বা ইউরো কাঁপাতে পারতেন। কিন্তু তিনি বেছে নিয়েছেন নিজের শিকড় নরওয়েকে।
শুরুটা ২০০০ সালের ২১ জুলাই, ইংল্যান্ডের লিডস শহরে। হালান্ডের বাবা আলফ-ইঙ্গে হালান্ড তখন খেলতেন ইংলিশ ক্লাব লিডস ইউনাইটেডে (পরবর্তীতে তিনি ম্যানচেস্টার সিটিতেও খেলেন)। বাবার ফুটবল ক্যারিয়ারের সূত্রে হলান্ডের জীবনের প্রথম ৩-৪ বছর কাটে ইংল্যান্ডেই।
ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার (FIFA) নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় যে দেশে জন্ম নেন, তিনি চাইলে সেই দেশের জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারেন। সেই হিসেবে জন্মসূত্রে ইংল্যান্ড দলে খেলার পূর্ণ অধিকার হালান্ডের ছিল।
হালান্ডের বয়স যখন মাত্র ৩ বা ৪ বছর, তখন চোটের কারণে তাঁর বাবার ফুটবল ক্যারিয়ার থমকে যায়। ফলে পুরো পরিবার ইংল্যান্ড ছেড়ে আবার নিজেদের দেশ নরওয়ের ‘ব্রায়ান’ শহরে ফিরে আসে।
এই ব্রায়ান শহরেই শান্ত পরিবেশ, বরফে ঢাকা পাহাড় আর সবুজ মাঠের মাঝে বড় হন হালান্ড। এখানকার স্কুল, শৈশবের বন্ধুবান্ধব আর আলো-বাতাস তাকে মনে-প্রাণে একজন খাঁটি নরওয়েজিয়ান করে তোলে।
স্থানীয় ক্লাব ‘ব্রায়ান এফকে’ দিয়ে তার ফুটবলে হাতেখড়ি হয়। এরপর নরওয়ের অনূর্ধ্ব-১৫ দল থেকে শুরু করে প্রতিটি বয়সভিত্তিক দলেই তিনি নিয়মিত খেলেন এবং নিজের জায়গা পাকা করে নেন।
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, ইংল্যান্ডের মতো এত শক্তিশালী দল- যাদের হয়ে বিশ্বকাপ বা ইউরো জেতার সুযোগ অনেক বেশি, তাদের কেন হালান্ড 'না' বললেন?
আসলে বিষয়টা ইংল্যান্ডকে ফিরিয়ে দেওয়া ছিল না, বরং নিজের মাতৃভূমিকে বেছে নেওয়া ছিল। ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বা তাদের তৎকালীন কোচ গ্যারেথ সাউথগেট যখন হালান্ডের এই অবিশ্বাস্য প্রতিভার কথা জানতে পারেন এবং তাকে ইংল্যান্ড দলে নেওয়ার কথা ভাবেন, ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। হলান্ড ততদিনে নরওয়ের ফুটবল সংস্কৃতির সাথে পুরোপুরি মিশে গেছেন।
ইংল্যান্ড দলে না খেলার জন্য হালান্ডের মনে বিন্দুমাত্র আফসোস নেই। নিজের পরিচয় নিয়ে গর্ব করে তিনি বলেন:
‘আমার বাবা যদি ইংল্যান্ডে আরও বেশি দিন থাকতেন, তাহলে হয়তো আমি ইংলিশই হতাম। কে জানে! তবে আমি একজন নরওয়েজিয়ান।’
‘আমি ইংল্যান্ডে মাত্র তিন-চার বছর ছিলাম, আর আমার পুরো জীবনটাই কেটেছে নরওয়েতে। তাই নরওয়েকে বেছে নেওয়াটাই আমার জন্য সবচেয়ে স্বাভাবিক ছিল। আমি নরওয়েজিয়ান এবং এই পরিচয় নিয়ে আমি সত্যিই খুব গর্বিত।’
সুযোগ বা ট্রফির মোহে না পড়ে হালান্ড বেছে নিয়েছেন নিজের ঘর, নিজের মাতৃভূমিকে। আর এই খাঁটি দেশপ্রেমই তাকে নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নায়ক বানিয়ে তুলেছে।

