

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের নাটকীয় গোলে কোনোমতে বেঁচে গেছে ব্রাজিল। গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির অন্তিম মুহূর্তের গোল সেলেসাওদের এনে দিয়েছে উল্লাসের উপলক্ষ। কিন্তু এই রোমাঞ্চকর জয়ের পর মাঠের পারফরম্যান্স ছাপিয়ে বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম কেড়ে নিয়েছেন নেইমার জুনিয়র।
তবে এবার মাঠে না নেমেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভবিষ্যদ্বক্তাকে খোঁচা দিয়ে বড়সড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তিনি।
জার্মান গণিতবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্ট, যিনি গত তিনটি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দলের নাম নিখুঁতভাবে মিলিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে এবারের আসরে শেষ বত্রিশ থেকেই বিদায় নেবে ব্রাজিল।
ক্লেমেন্টের এই ভবিষ্যদ্বাণীটিকে বেশ ব্যক্তিগতভাবেই নিয়েছিলেন কার্লো আনচেলত্তির দলে শেষ মুহূর্তে ডাক পাওয়া নেইমার। ব্রাজিল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্লেমেন্টকে উদ্দেশ্য করে একটি সরাসরি বার্তা পাঠান তিনি।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ক্লেমেন্টকে উদেশ্য করে নেইমার লিখেন, "জনাব জোয়াকিম ক্লেমেন্ট... দয়া করে পরের বিশ্বকাপে আবার চেষ্টা করবেন।"
জাপানের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ে শেষ শোলোর টিকিট নিশ্চিত করার পর নেইমারের এমন পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয় স্মাজিক মাধ্যমে। অনেকেই নেইমারের সঙ্গে তাল মিলিয়েছেন। কেউ কেউ আবার নেইমারের সমালোচনাও করছেন।
কেমন ছিল ক্লেমেন্টের গাণিতিক মডেল?
জোয়াকিম ক্লেমেন্টের এই জটিল গাণিতিক মডেলটি মূলত অর্থনৈতিক চলক, জনমিতি এবং ক্রীড়া বিষয়ক সূচকের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তাঁর এই মডেলে যেসব বিষয় গুরুত্ব পায় মাথাপিছু জিডিপি যা সংশ্লিষ্ট দেশের ক্রীড়া পরিকাঠামো ও বিনিয়োগের স্তরকে নির্দেশ করে।
এছাড়া জনসংখ্যার আকার যা প্রতিভার বড় উৎস বা ট্যালেন্ট পুল তৈরিতে সাহায্য করে। এমনকি সমাজে ফুটবলের সাংস্কৃতিক গুরুত্ব, ফিফা র্যাংকিংয়ে দলের বর্তমান অবস্থান এবং মাঠের ‘অপ্রত্যাশিত ভাগ্য’, এসবও বিবেচনায় নেয় জার্মান গণিতবিদের সেই মডেল।
ক্লেমেন্টের এই মডেল অনুযায়ী, সেমিফাইনালে স্পেনকে হারিয়ে ফাইনালে উঠবে নেদারল্যান্ডস এবং পর্তুগালকে পরাজিত করে ডাচরাই হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত চ্যাম্পিয়ন।
ক্লেমেন্টের মতে, ২০২৬ সালের বর্ধিত দল ও নতুন ফরম্যাটের কারণে এবার ‘ভাগ্যের’ চলকটি বেশি কার্যকর। কারণ একটি অতিরিক্ত সরাসরি নকআউট রাউন্ড যুক্ত হওয়ায় যেকোনো বড় দলের একটি ম্যাচ খারাপ গেলেই আন্ডারডগ বা দুর্বল দলের কাছে বাদ পড়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্রাজিল সেই ফাঁড়া কাটাতে পারলেও নেইমারের মাঠের বাইরের এই কাণ্ড বিশ্বকাপের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল।

